ছুটি নাই চাকতাই চালপট্টিতে! কর্মচারীদের ক্ষোভ

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার, বিভিন্ন সরকারি ছুটিছাটার দিন, এমনকি শ্রমিক-কর্মচারীদের নিজস্ব দিবস ‘মে’ দিবসেও ছুটি পায় না চাক্তাই চালপট্টিতে কাজ করা শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে সারাটি সপ্তাহ হাড়ভাঙ্গুনি পরিশ্রমের পরও তারা পায় না একটু অবসর। তাদের দীর্ঘ দিনের দাবির পারপ্রেক্ষিতে চাকতাই চাল ব্যবসায়ী সমিতি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে দোকান বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করলেও এর বাস্তবায়নে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শুক্রবার ছুটির দিনেও দোকান খোলা রেখে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ৫০ ভাগের অধিক দোকান। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
শুক্রবারের এক বিকেলে এই প্রতিবেদক চাকতাই-খাতুনগঞ্জ-আছাদগঞ্জের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখতে পান, খাতুনগঞ্জ আর আছাদগঞ্জের প্রায় সব দোকান বন্ধ থাকলেও চাক্তাই চালপট্টিতে দেখা গেল এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। পঞ্চাশভাগেরও অধিক চালের দোকান খোলা রেখে মালিকরা স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবসাপাতি ও চাল লোড-আনলোড করে চলেছে।
কথা হয় এমনই এক চালের দোকানের মালিক এর সঙ্গে। শুক্রবারে ছুটির দিনেও কেন দোকান খোলা রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সুপ্রভাতকে বললেন, ‘আমি আসলে নিজেই দোকান খোলা রেখে বসে আছি। কর্মচারীরা বেশিরভাগ ছুটিতে গেছে। যে ক’জন আছে তারা নিজেরা ঐচ্ছিকভাবেই কাজ করছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ দোকানের এক কর্মচারী জানাল ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘মালিক আমাদের জোর করে ধরে রেখেছেন। আমরা শুক্রবারে একটু ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে চাইলে কিছুতেই ছুটি দেন না। ওল্টো বেতন কেটে রাখার ভয় দেখায়।’
চাকতাই দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম সরোয়ার চৌধুরী দৈনিক সুপ্রভাতকে জানান, খাতুনগঞ্জ-আছাদগঞ্জ-কুরবানগঞ্জের বিভিন্ন সমিতির দেখাদেখি আজ থেকে তিন-চার বছর আগে চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা শুক্রবারে দোকান বন্ধ রাখার জন্য একটা নোটিশ ঝুলিয়ে দিলেও এর বাস্তবায়নে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনগুলোতে তো বটেই শুক্রবারেও ৫০ ভাগের অধিক দোকান খোলা রেখে চাল বেচাবিক্রি করে, শ্রমিক-কর্মচারীও ছুটি থেকে বঞ্চিত হয়।
সরোয়ার চৌধুরী আরও জানান, পাশ্ববর্তী আছাদগঞ্জের শুঁটকিপট্টিতেই এ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হয় বলে কর্মচারীদের মধ্যে কোন রকমের অসন্তোষ ও অভিযোগ নেই। শুক্রবারের দিন যদি কেউ দোকান খোলা রেখে এক কেজি শুঁটকিও বিক্রি করে তাহলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান আছে। কিন’ চাকতাইতে এরকম কোন বিধান না থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা সপ্তাহে একটা দিন ছুটিও পায় না।
এ ব্যাপারে কথা হয় চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনামুল হক এনামের সঙ্গে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, শুক্রবার তো আমাদের অফিসিয়াল বন্ধ। তাই এদিন দোকান খোলা রেখে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবসা করার কোন প্রশ্নই আসে না। তবে চাকতাই চালপট্টির সঙ্গে যে সব ব্যবসায়ী যুক্ত তারা বেশিরভাগই ওখানে ব্যবসা করে, ওখানে থাকে এবং ওখানে খায়, ঘুমায়। তাই কেউ যদি ইচ্ছে করে দোকান খোলা রেখে বসে থাকে তাহলে তো তাদের কেউ মানা করতে পারে না।
এ নিয়ে কোন শ্রমিক কর্মচারী সমিতি বরাবর এখনো কোন অভিযোগ করেনি বলে জানান সমিতির সভাপতি এনাম। তবে কেউ অভিযোগ করলে এর একটা বিহিত করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদেরও অধিকার আছে কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নেবার। যদি কোন শ্রমিক-কর্মচারী এ নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস’া গ্রহণ করব।