ছবি শহর

“ইফতেখারম্নল ইসলাম নামে এক নবীন লেখকের কথাবার্তা শুনে আমি চমকে চমকে উঠছিলাম । সে সমগ্র বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে এত বেশি জানে যে ওই বয়েসি কচিৎ দু-একজনের মধ্যেই এ রকম জানার পরিধি সম্ভব ।…” এই কথাগুলো লিখেছেন আর কেউ নয়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ‘খুব কাছে খুব দূরে’ নামের এই রচনাটি রয়েছে তাঁর পায়ের তলায় সর্ষে ১, ভ্রমণ সমগ্র বইয়ের ১০৭ পৃষ্ঠায় (পত্রভারতী, কলকাতা, জুন ২০১০)।
বাংলা সাহিত্যের পাঠক হিসেবে ছেলেবেলা থেকেই অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছেন ইফতেখারম্নল ইসলাম । ভিন্ন-জগতের পেশাজীবনে যাঁরা প্রতিষ্ঠিত, আনত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে যাঁরা সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দেন, তাঁদের কেউ কি দীর্ঘদিন সাহিত্যপাঠ এবং লেখালেখির আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন? কয়েক বছর আগে এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গবেষক ও সম্পাদক আহমাদ মাযহার লেখেন, “এ রকম অবস্থানে যাঁরা পৌঁছান তাঁদের মধ্যে সাহিত্যিক সত্তার বেঁচে থাকার দৃষ্টানত্ম খুবই কম! ইফতেখারম্নল ইসলাম সেই কমসংখ্যকেরই প্রতিনিধি ।”
এই ইফতেখারম্নল ইসলাম তাঁর ছেলেবেলার বই পড়ার গল্প বলেছেন বিভিন্ন রচনায় । জিম হকিন্সের সঙ্গে তিনি দেখেন কোনো উদাস দিনের রহস্যময় অতিথি আর রত্নদ্বীপের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া জলদস্যুর দলকে । তাঁর মন ঘুরে বেড়ায় লরা ইঙ্গলস আর তাদের পরিবারের সঙ্গে উইজকনসিনের অরণ্যে, ক্যানসাস, মিনেসোটা বা ডাকোটা অঞ্চলের বিসত্মীর্ণ ঘাসের বনে।
প্যারীদাস রোড, ঝামাপুকুর লেন, বেনিয়াটোলা কিংবা ফিরিঙ্গিবাজার রোড প্রকাশকদের ঠিকানা তাঁকে পথ দেখায়। তিনি দেখেছেন আজ থেকে প্রায় অর্ধ-শতাব্দী আগে কেমন ছিল আমাদের বইয়ের জগত। কেমন ছিল সেই ষাট ও সত্তর দশকের পত্র-পত্রিকা।
কীভাবে ছেলেবেলায় পড়া গল্প, কবিতা, জীবন-কাহিনী, আর অন্যান্য বই আমাদের আপন সত্তার বিকাশে কাজ করে চলে? কীভাবে ধীরে ধীরে একজন মানুষের অনত্মরে জ্বলে ওঠে শুভচেতনার আলো? এ রকম অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ইফতেখারম্নল ইসলাম তাঁর স্বপ্নের ঠিকানায় ।