চেম্বারে কানাডীয় প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়

চট্টগ্রামে বিনিয়োগের আহ্বান
Chamber_Canada-25-02-18-(1)

কানাডা সরকারের গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স’র মহাপরিচালক ডেভিড হার্টম্যান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার বেনওয়া প্রেফনটেইন গতকাল সকালে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বোর্ড অব ডাইরেক্টর্স’র ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালকবৃন্দ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মঈনুদ্দিন আহমেদ ও অঞ্জন শেখর দাশ, তুর্কির অনারারী কনস্যুল জেনারেল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হার্বার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর শাহীন রহমান, চেম্বারের সদ্যবিদায়ী পরিচালক মাহফুজুল হক, ওওসিএল’র ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী ও পূর্বকোণ ব্যবস’াপনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে কানাডা হাইকমিশনের ট্রেড কমিশনার মো. কামাল উদ্দিন, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ কে এম আক্তার হোসেন, মো. জহুরুল আলম, মাহবুবুল হক চৌধুরী, ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. রকিবুর রহমান, এস. এম. শামসুদ্দিন, হাসনাত মো. আবু ওবাইদা, মো. শাহরিয়ার জাহান, মো. আবদুল মান্নান সোহেল, এইচআরসি’র সিনিয়র পরিচালক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ, ইপিবি’র পরিচালক কংকন চাকমা ও বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমানসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন। গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স’র মহাপরিচালক ডেভিড হার্টম্যান চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মন্তব্য করে বলেন, কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উভয় দেশের মধ্যে ২.৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার এবং গত বছর ৪৯% বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রকাশ করে আগামীতে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মাধ্যমে অধিকতর বাণিজ্য সম্প্রসারণের ীপর গুরুত্বারোপ করেন। ডেভিড হার্টম্যান বাংলাদেশের অভাবনীয় অর্থনীতির সাফল্যের প্রশংসা করে দু’দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, শিক্ষা, গ্রিন প্রযুক্তি, এ্যারোস্পেস, রেল ও গ্যাস খাতে কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের সামর্থ্য কাজে লাগানোর কথা তুলে ধরেন। হাইকমিশনার বেনওয়া প্রেফনটেইন বলেন, কানাডিয়ান সরকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নের সাফল্য, বিশাল বাজার, বিপুল জনসংখ্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উভয় দেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানান। কানাডিয়ান হাইকমিশনার ভাল বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত নয় মন্তব্য করে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণে দৃষ্টি দেবেন বলে জানান। চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে এফডিআই’র ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন। তিনি কানাডা বিনিয়োগকারীদের জন্য কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইটি ও টেলিকমিউনিকেশন, তেল, গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাত, ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাত বিশেষ সম্ভাবনাময় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া চেম্বার সভাপতি ব্লু ইকোনমির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে আরো বৃদ্ধি করবে বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি দু’দেশের সরকারের মাঝে ইনভেস্টমেন্ট প্রটেকশন এগ্রিমেন্ট নিয়ে বর্তমানে যে আলোচনা চলছে তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে কানাডার সরাসরি বিনিয়োগ অধিকহারে বৃদ্ধি পাবে বলেও মাহবুবুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম ফলপ্রসূ মতবিনিময় লব্ধ ও তথ্যসমূহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বাংলাদেশ হতে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করার জন্য কানাডিয়ান সরকারকে অনুরোধ জানান এবং এদেশ হতে উচ্চ শিক্ষার্থে কানাডা গমনে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি