চুরি করে ঋণ শোধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-2

নিজের প্রাইভেটকার আর জমি বিক্রি করে ব্যবসায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে লোকসান আর ঋণভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করতে গিয়ে তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বন্ধুরাও। এ কষ্ট সইতে পারছিলেন না তিনি। বিষাদে ছেয়ে যায় তার জীবন। মনে কষ্ট পাবেন বলে বিষয়টি মাকেও জানাননি। সব হারিয়ে পাওনাদারদের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন, চুরি করে হলেও ঋণের টাকা শোধ করবেন।
নেমে পড়েন প্রতারণা ও চুরিতে। নগরের এমইএস কলেজের সামনে থেকে তিনটি মোটর সাইকেল চুরি করে ঋণের কিছু টাকা শোধও করেছিলেন। কিন’ শেষ রক্ষা হয়নি তার। চতুর্থবার প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা। এই তিনি হলেন ফটিকছড়ি লেলাং
ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শাকিউল বশর শাকিল (২৯)।
মঙ্গলবার রাতে নগরের জামালখান এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে শাকিল ধরা পড়েছেন পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই সদস্যদের হাতে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থেকে অর্জুন কুমার নাথ নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করে পিবিআই। অর্জুনের বাড়িও একই গ্রামে।
পিবিআই সূত্র জানায়, শাকিলের বাবা ফটিকছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা। তার মাও ফটিকছড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে শাকিল সবার ছোট। অর্জুনের স্ত্রীও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ২০১০ সালে ফটিকছড়ির বিবিরহাটে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খুলে ব্যবসা শুরু করেন স্নাতক পাস শাকিল। ওই ব্যবসায় লোকসানের পর চারটি সিএনজি অটোরিকশা কিনেন। কিন’ তাতেও লোকসান পেয়ে বসে। ২০১৪ সালে সিএনজি অটোরিকশাগুলো বিক্রি করে পটিয়া উপজেলা সদরে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন শাকিল। লোকসান হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যে সেটিও বন্ধ করে দেন। এরপর নিজের কাছে গচ্ছিত থাকা ১৩ লাখ এবং আরও ১০ লাখ টাকা ধার নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজারে ফ্রেন্ডস টেলিকম নামে একটি মোবাইল বিক্রির প্রতিষ্ঠান চালু করেন । কিন’ ব্যবসায়িক পার্টনাররা তার টাকা মেরে দিলে সেই ব্যবসাও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন । এরপরও দমে যাননি শাকিল। চেষ্টা করেন উঠে দাঁড়াতে। ২০১৬ সালে শুরু করেন প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসা। এ ব্যবসায়ও সফল হতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে পাওনাদারের চাপে পর্যদুস্ত শাকিল নেমে পড়েন ডিজিটাল প্রতারণা ও চুরিতে।
গতকাল বুধবার পিবিআই কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সামনে শাকিল সাংবাদিকদের চুরির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বর্ণনা দেন। শাকিল জানান, বিক্রয় ডটকমে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে বিক্রেতার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর কথিত প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে বিক্রেতার কাছে ওই মোটরসাইকেল দেখতে যান শাকিল। এক পর্যায়ে দরদামও করে ফেলেন। পরের দিন একাই ওই মোটরসাইকেল কিনতে যান। এসময় প্যাকেটে মোড়ানো ‘টাকার’ বান্ডিল বিক্রেতার সামনে রেখে মোটরসাইকেলটি চালানোর কথা বলে স্টার্ট দিয়েই চম্পট দেন। এদিকে বিক্রেতা খুলে দেখেন প্যাকেটে টাকা নয়, সেখানে আছে কাগজ। ওই প্যাকেটের শুধু উপরে আর নিচে আছে দুই-একটি ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট।
পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, গ্রেফতারের পর শাকিল নগরের এমইএস কলেজের সামনে থেকে তিনটি মোটরসাইকেল প্রতারণার মাধ্যমে চুরির করে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তার সহযোগী অর্জুন এ যাবত মধ্যস’তা করে ১২টি মোটরসাইকেল বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। অর্জুনকে রিমান্ডে আনা হবে বলেও জানান পরিদর্শক সন্তোষ।