চীনা তৈরি পোশাকে ভারতের শুল্ক বৃদ্ধিতে সুযোগ তৈরি বাংলাদেশের

সুপ্রভাত ডেস্ক

চীনের পোশাক পণ্যে নয়া দিল্লি বাড়তি শুল্ক বসানোয় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুফল কাজে লাগিয়ে ভারতের তৈরি পোশাকের বাজারে চীনের জায়গা দখল করা সম্ভব বলে মনে করছেন রপ্তানিকারক ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার ভারত সরকার চীন থেকে আমদানি করা ৩০০টির বেশি পোশাক পণ্যে আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করেছে। এতদিন এই শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ; তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ’র।
স’ানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুবিধা দিতে চীন থেকে আমদানি নিয়ন্ত্রণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্স খবর দিয়েছে।

ভারতে গত অর্থবছরের ১১ মাসে (২০১৭ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত) টেক্সটাইল খাতের মোট আমদানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আসে চীন থেকে।
৩২৮টি টেক্সটাইল পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর কথা বলা হলেও সেগুলোর নাম এখনও প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ক্যাম্বোডিয়া থেকে ভারতের টেক্সটাইল পণ্য আমদানি বেড়েছে। এফটিএ- এর কারণে এসব দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ‘ভালো’ সুযোগ হিসেবে দেখছেন
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য খুবই ভালো সংবাদ। আমরা ভারতের বাজারে আরও বেশি পোশাক রপ্তানি করতে পারব।
‘ভারতে যেসব পোশাক রপ্তানি চীন করত, ট্যাক্স বাড়ানোয় সেগুলোর রপ্তানি কমে আসবে। আমরা সেই বাজার দখল করতে পারব।’ এতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, গত ২০১৭-১৮ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ শতাংশের মতো। পাশের দেশ ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়লে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।
বেসরকারি গবেষণা সংস’া সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশ যদি এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়বে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, এর মধ্য দিয়ে তা কমে আসবে বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর। বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৭৬ কোটি ৩২ লাখ (৪.৭৬ বিলিয়ন) ডলার।
এরমধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৫৪৫ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের পণ্য। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৬৩৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে ভারতে রপ্তানি করেছে ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে ১৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল,
যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৫-১৬) চেয়ে ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ভারতে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি।

ওই পাঁচ মাসে উভেন পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ৫১ শতাংশ। আর নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৩ কোটি ১ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৯ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ (৩৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে, যার ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে।
চলতি ২০১৮-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের মোট লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। এরমধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।