চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চিরচেনা ক্যাম্পাসে অচেনা রূপ

বাইজিদ ইমন, চবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে এখন সুনসান নীরবতা। ছবিটি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টি থেকে তোলা-সুপ্রভাত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে এখন সুনসান নীরবতা। ছবিটি বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টি থেকে তোলা-সুপ্রভাত

প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে থাকত ক্যাম্পাস। শাটল ট্রেনে করে শহর থেকে শিক্ষার্থীরা আসতো হই-হুল্লোড় করে। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়া আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হল সংস্কার করার তাগিদে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করায় একেবারে নীরব নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
জানা যায়, গ্রীষ্মকালীন ছুটি, পবিত্র মাহে রমযান, ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এছাড়া হল সংস্কারের তাগিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৮ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশনায় হল ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা। আর ক্যাম্পাস এবং হল বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই নাড়ির টানে বাড়ির পথ ধরেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। ফলে তারুণ্যের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস এখন নীরব নিস্তব্ধ।
জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, কলা ভবন, কলা ঝুপড়ি, সামাজিক বিজ্ঞান ঝুপড়ি, মুক্ত মঞ্চ, ফরেস্টি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থানে তরুণ-তরুণীদের আড্ডাবাজিতে মুখরিত থাকতো যে ক্যাম্পাস, সেখানে আজ শুধুই শূন্যতা। যে রেল-লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষার্থীরা শাটল ট্রেনের বগি মাতানোর জন্য দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হত, সেখানে আজ নেই কোনো কোলাহল, শুধু রয়েছে নিস্তব্ধতা। কিংবা ঝুঁপড়িগুলোতেও আড্ডাবাজদের উপস্থিতি নেই।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা হয় শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাদাফ খানের সাথে। বন্ধের দিনে ক্যাম্পাসে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদিন যে ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাছে ঘুরে বেড়াতাম, আড্ডা, মিছিল-মিটিং করে সময় পার করতাম কিংবা কখনো বন্ধুদের সাথে আনন্দ দুঃখ ভাগাভাগি করে ক্যাম্পাসটা মাতিয়ে তুলতাম; কিন্তু এই প্রাণের ক্যাম্পাসকে ছেড়ে আজ অন্যত্র অবস্থান করায় কষ্ট লাগছে। তাই আজ ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রাণের ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসলাম।
তবে দক্ষিণ ক্যাম্পাসের একটি মেসে থাকা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আনাস মোহাম্মদ ফয়সাল জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, টিউশন থাকায় নাড়ির টান থাকলেও এবারের ছুটিতে ২৫ রমজানের আগে বাড়ি ফেরা হচ্ছেনা। ক্যাম্পাসের পাশে মেসে থাকার কারণে প্রায় প্রতিদিনই ঘোরা হয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের জিসান গাজী নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তার ফেইসবুক পেইজে লিখেন, ‘নিত্য উচ্ছ্বাসে প্রাণোচ্ছল পাহাড়ঘেরা সবুজ অরণ্যের চিরসাথী আমার প্রাণের চবি ক্যাম্পাস, যা আমার স্বপ্নের ঠিকানা। সত্যি এ ক্যাম্পাসকে ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে আমার কষ্ট হচ্ছে। আজ ইচ্ছা করছে পাখির মতো ডানা মেলে তার প্রাণে ছুটে যেতে’।