চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ

আবু আফজাল মোহা. সালেহ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিতা-গান নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। ছোটগল্প নিয়েও আলোচনা হয়। তাঁর প্রবন্ধ-উপন্যাস বা নাটক-ভ্রমণকাহিনী নিয়ে আলোচনা হয়। তবে কবির বার একটি সত্তা আছে সেটা হচ্ছে শিল্পী বা ‘চিত্রকর’। এটা আড়ালেই থেকে যায়। আলোচনা খুব কমই হয়। কবি হিসাবে সমধিক পরিচিত হলেও সাহিত্যের সব বিষয়ে তিনি পা রেখেছেন। যেখানে তাঁর পদচারণা সেখানেই সোনা ফলেছে।
তিনি শুধু কবিই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার প্রাবন্ধিক, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে কবিতার কাটাকুটি করতে গিয়ে আঁকা শুরু করলেন চিত্রকলা। ১৯২৪ থেকে ১৯৪১ সালে মৃত্যু অবধি প্রায় আড়াই হাজার ছবি এঁকে তিনি এক বিস্ময়কর শিল্প প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। কিন’ রবীন্দ্রনাথ পুরোদস’র ছবি আঁকা শুরু করেন ১৯২৮ সাল থেকে। আজ আমরা ‘রবীন্দ্র চিত্রকলা’ বলতে যা বুঝি তা হল সেই সময় থেকে পরবর্তী দশ বারো বছরে আঁকা তার আড়াই হাজারের ওপর ছবি। নিজের আঁকা ছবি সমপর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ঐগুলি কেবল রেখাই নয়, ঐগুলি তার থেকেও কিছু বেশি। আমার চিত্রাঙ্কিত স্বপ্ন এক কাব্যিক কল্পনার দর্শন।’ তিনি তার চিত্র সাধনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে প্যারিস শহরের পিগ্যাল আর্ট গ্যালারিতে তার প্রথম শিল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কিন’ ‘চিত্রকর রবীন্দ্রনাথ’ এই পরিচয়টি এখানে খুব পরিচিত হয়ে ওঠেনি।
শিলাইদহ বা শাহজাদপুরে কবির আঁকা চিত্রকর্ম দেখা যাবে। কোলকাতার জোড়াসাঁকো বা শান্তিনিকেতনে এ শিল্পকর্ম লক্ষ করা যাবে। প্রতিকৃতি, নারীদৃশ্য, বৃক্ষরাজি, বিমূর্ত ইত্যাদি ছবি শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িতে শোভা পাচ্ছে! শান্তিনিকেতনে কবির শিল্পকর্মের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। রবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার কবির চিত্রকর্ম নিয়ে বই প্রকাশ করেছে। তিনি গারো বাদামি এবং কালো রঙও বেশি ব্যবহার করতেন। তিনি খুব কম সময়েই লাল এবং সবুজ রঙ ব্যবহার করতেন। নারী ছবিগুলো বেশি জীবন্ত হয়েছে।