চিতাবাঘের মতো দ্রুত দৌড়ানো কি সম্ভব?

সম্পাদকীয়

১০০ মিটার স্প্রিন্টে এখন পর্যন্ত (২০১২) সবচেয়ে দ্রুত দৌড়ানোর রেকর্ড ঘণ্টায় ২৮ মাইলেরও কম। উসাইন বোল্টের এ রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবেন কি না, সেটা নির্ভর করে তাঁদের অনুশীলন ও উপযুক্ত কৌশলের ওপর। মানুষের জন্য এত দ্রুত দৌড়ানো কম কথা নয়।
কিন’ যদি চিতাবাঘের কথা ভাবি, তাহলে অবাক হতে হয়। একটা চিতা শিকার ধরার জন্য ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে দৌড়ায়। চতুষ্পদ প্রাণীর মধ্যে এরাই সবচেয়ে দ্রুতগামী। ঘোড়া ঘণ্টায় ৬৫ মাইল, গ্রে হাউন্ড-জাতের কুকুর ঘণ্টায় ৪০ মাইল পর্যন্ত দৌড়ায়। চিতা চার পায়ে দৌড়ায়, কিন’ মানুষের মাত্র দুটি পা।
তা সত্ত্বেও চিতার দৌড়ের কৌশল থেকে কিছু শেখার আছে কি? ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে একদল গবেষক চিতার দৌড়ের কিছু চকমপ্রদ বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছেন। জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিতে তাঁরা গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দেখেছেন দৌড়ের সময় চিতার চার পায়ের মাংসপেশির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
বিশেষভাবে লাফ দিয়ে দৌড়ের সময় যখন তাদের পা মাটিতে পড়ে, তখন তার ধাক্কা সামলাতে হয় পায়ের পেশিকে। এ জন্য চিতার কৌশল হলো, দৌড়ের সময় পায়ের পাতা যথাসম্ভব কম সময় যেন মাটিতে থাকে, সেটা নিশ্চিত করা। দৌড়বিদেরা অন্তত এ দুটি বিষয় কৌশল হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। প্রথমত, তাঁদের পায়ের রানের পেশি যথেষ্ট শক্তিশালী রাখা।
দ্বিতীয়ত, দৌড়ের সময় পায়ের পাতা যেন মাটি স্পর্শ করেই লাফিয়ে উঠে যায়, সে কৌশল আয়ত্ত করা। অবশ্য শরীর যে হালকা-পাতলা রাখতে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি যদি দৌড়ে রেকর্ড করতে চান, তাহলে অনুশীলনের সময় এসব বিষয় মনে রাখুন।