চিকিৎসার নতুন যুগে চট্টগ্রাম

সালাহ উদ্দিন সায়েম
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে।  -ছবি: শহীদ ফারুকী
ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। -ছবি: শহীদ ফারুকী

চট্টগ্রাম নগরীতে দুটি বড় সরকারি হাসপাতাল এবং মধ্যম সারির ২১টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে। কিন্তু এসব হাসপাতালের সেবার মান নানা অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। যে কারণে চট্টগ্রামের সামর্থবান মানুষদের একটা অংশ মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসার জন্য হরহামেশা ঢাকা ও দেশের বাইরে ছুটে যান।
রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি বিশ্বমানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে উঠলেও বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত এ চট্টগ্রাম শহরে তা নেই। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসায় গাফিলতি করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটে অপারেশনের ধারালো সরঞ্জাম রেখে সেলাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে এখানে। অভিেেযাগ আছে, রোগীদের দেহে কোনো যন্ত্র স্থাপনের জন্য আসল যন্ত্রের টাকা নেওয়া হলেও লাগানো হয় নকল ও কমদামি যন্ত্র। রোগী ও তার স্বজনদের হয়রানি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন নার্স-চিকিৎসকরা। বেড পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। আছে দালালের দৌরাত্ম। এর বাইরে সরকারি হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। ঢোকা যায় না দুর্গন্ধের কারণে।
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতেও অনিয়মের মাত্রা নেহাত কম নয়। প্রয়োজন ছাড়া রোগীকে আইসিইউতে রাখা ও অস্ত্রোপচার করা, অহেতুক রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা করা, রোগীকে সময় কম দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া, ভুলচিকিৎসাসহ নানা অনিয়মের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রামবাসীর উন্নত চিকিৎসাসেবার সংকট ঘোচাতে নগরীর জাকির হোসেন সড়কে চক্ষু হাসপাতালের পাশে গড়ে উঠছে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্বমানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এ হাসপাতালটি গড়ে তোলার পেছনে আছেন পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষ্‌জ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন।
৭ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ২০০ শয্যার পাঁচ তারকা মানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালটি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
৫তলা হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি এখানে আরও দুটি অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে আছে নার্স ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং রোগীর স্বজনদের জন্য আবাসিক ভবন।
সবুজ পাহাড়ে ঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা হাসপাতালটির নান্দনিক সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ হাসপাতালটিতে প্রবেশ করার সময় এর গঠনশৈলী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে আগতদের।
বিশেষায়িত এ হাসপাতালটি চিকিৎসাসেবায় এ অঞ্চলের বিদেশমুখী রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ৮০ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ হাসপাতালটি চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, এ হাসপাতাল প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। দেশে এই প্রথম বেসরকারি কোনো হাসপাতালে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। চক্ষু হাসপাতালের নান্দনিক অবকাঠামো ও সেবার মান দেখে বিশ্বব্যাংক ইমপেরিয়াল হাসপাতালে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানালেন ডা. রবিউল হোসেন।
জানা গেছে, এ হাসপাতালের রোগ নির্ণয় কেন্দ্রটিতে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। যা এ শহরের কোনো ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নেই। এখানে যেসব চিকিৎসকরা সেবা দেবেন তাদেরকে দেশের বাইরে প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ হাসপাতাল এলাকায় পরবর্তীতে ১০ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন গড়ে তোলা হবে। যেখানে থাকবে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত ক্যান্সার শাখা।
জানা গেছে, হাসপাতালে শতকরা ১০ ভাগ গরীব রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।