চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসকের অবহেলায় নগরীর পাঁচলাইশ থানার কাছের পার্কভিউ হসপিটালে মোহাম্মদ শাকের (৪৭) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে বলে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে।
মোহাম্মদ শাকের নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন।
শাকেরের ভাগিনা আশফাক আহমেদ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মাথাব্যথার (মাইগ্রেন) কারণে সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মামাকে পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ফোন করে। পরদিন বেলা বারটার দিকে ওই চিকিৎসক মামাকে দেখে কিছু টেস্ট দেন। রাতেই টেস্টের রিপোর্ট দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, রিপোর্ট ভালো আছে।
আশফাক বলেন, এরপর চিকিৎসকেরা মামার এমআরআই করাতে হবে বলে জানান। রাতেই রোগীর এমআরআই করানো হয়। বুধবার রাতে রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল। কিন’ তার আগে রোগী মারা যান।
তিনি বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে রোগীর শারীরিক অবস’ার অবনতি হয়। এসময় একাধিকবার ডেকে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের রোগীর কেবিনে আনা যায়নি। জরুরি চিকিৎসক ডাকতে কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজে আসেনি।’
ভাঙচুরের ব্যাপারে আশফাক বলেন, চিকিৎসা না দিয়ে একজন রোগীকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঘটনার প্রতিবাদ করেছি। কিন’ কোনো ধরনের হামলা-ভাঙচুর চালাইনি। আশফাক জানান, কর্তৃপক্ষ মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এধরনের অভিযোগ তুলছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস’াপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম সুপ্রভাতকে বলেন, রোগী
ভর্তির পর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ফোনে ডাকা হয়। এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন রোগীকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে দেখে কিছু টেস্ট দেন। টেস্টগুলোর রিপোর্ট ভালো ছিল। তাই পরবর্তী সময়ে এমআরআই দেওয়া হয়।
ডা. করিম দাবি করেন, ‘রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না। এরপরেও রোগীকে বাঁচানো যায়নি।’
রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে মানুষ আসে ভালো চিকিৎসা পেতে। আমাদের চেষ্টা থাকে মানুষের চাহিদা পূরণে। তাই চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন।
পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস’লে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তবে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস’া নেয়া হবে।