চালের বাজার পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরাতে আগের মতোই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আযহার পর থেকে চালের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে ঠেকাতে সরকার ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক, ধানের মোকাম ও চালের পাইকারি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খোলা বাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচি (ওএমএস) সহ যেসব কার্যক্রম নিয়েছে তার প্রভাব চালের বাজারে কিছুটা পড়েছে। তবে সেটা পাইকারি বাজারেই সীমাবদ্ধ, খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিমত- চালের আড়ত, পাইকারি বাজার কিংবা ধানের মোকামসমূহে যেভাবে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে সেভাবে খোলা বাজারের দিকে প্রশাসনের তেমন নজর নেই, যার সুযোগ নিচ্ছে ছোট পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা।
‘লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে’ বলে সাধারণ ভোক্তা শ্রেণী তাই দাম কমার কোনো সুফল পাচ্ছে না।
গতকাল দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের পাইকারি বাজার চাকতাই এর বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের চালের দর কম-বেশি কমেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মোটা চালের বিভিন্ন আইটেমের। স্বর্ণা, পারিজা, ইন্ডিয়ান বেতি, বার্মা বেতি প্রভৃতি মোটা চাল বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাঝারি, সরু চালের বস্তা প্রতি দাম কমেছে ৫০ টাকা করে।
বর্তমান পাইকারি বাজারে ইরি (মোটা আতপ) বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ থেকে ১৮০০ টাকা, ২৮ নং বেতি ২২০০ টাকা, কাটারি পাইজাম ২৬০০ টাকা, কাটারি ভোগ ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা, পারি (সিদ্ধ) ২৪৮০ টাকা, মিনিকেট (সিদ্ধ) ২৫০০ টাকা, চিনিগুঁড়া (আতপ) ৩৫০০ টাকা, বাসমতি জিরাশাইল ২৪৫০ টাকা আর দিনাজপুরি পাইজাম ২৫০০ টাকা।
পাইকারি বাজারে চালের রকমভেদে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমলেও ছোট পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেই আগের বাড়তি মূল্যেই। বহদ্দারহাট ও চকবাজারের কয়েকটি ছোট পাইকারি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তারা বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ইরি (মোটা আতপ) বিক্রি করছে ১৮৫০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত, ২৮ নং বেতি ২৩০০ টাকা, কাটারি পাইজাম ২৬৫০ টাকা, কাটারি ভোগ ২৮৫০ থেকে ৩১০০ টাকা, পারি (সিদ্ধ) ২৫৫০ টাকা, মিনিকেট (সিদ্ধ) ২৬০০ টাকা, চিনিগুঁড়া (আতপ) ৩৬৫০ টাকা, বাসমতি জিরাশাইল ২৫০০ টাকা আর দিনাজপুরি পাইজাম ২৫৫০ টাকা।
ছোট পাইকারি বিক্রেতা প্রকাশ বড়ুয়াকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমাদের যা চাল স্টক আছে তা আগের বেশি দামে কেনা, ওগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাই লস দিয়ে কম দামে চাল বিক্রির প্রশ্নই আসে না।’
চকবাজোরের ক্রেতা মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘পাইকারি বাজারে যেভাবে মনিটরিং শুরু হয়েছে তা খুচরা বাজারেও নিয়ে আসা উচিত। নাহলে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থে চালের দাম কমাতে পরিচালিত সরকারের সকল প্রচেষ্টাই মাটি হয়ে যাবে।’
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব) এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসেন এর সঙ্গে। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায়ীরা যদিওবা দোহাই দিচ্ছেন আগে বেশি দামে চাল কিনেছেন বলে এখন পাইকারি বাজারে দাম কমলেও তারা কম দামে চাল বেচতে পারছেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যখনই পাইকারি বাজারে কোনো একটা জিনিসের দাম বাড়ে সেটা সাথে সাথে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাবে! কিন্তু কমার ক্ষেত্রে সেটা কখনো হবে না। এটা আসলে ব্যবসায়ীদের নীতি-নৈতিকতার ঘাটতির কারণে হচ্ছে।’
এসএম নাজের হোসেন খুচরা বাজারেও খুব শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) থেকে যদি খুচরা ব্যবসায়ীরা চালের দাম না কমান তাহলে খুচরা বাজারেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। চালের দাম কমার পর সাধারণ ভোক্তারা যদি এর সুফল না পেল তাহলে আমাদের সব প্রচেষ্টাই তো বৃথা হয়ে গেল। লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেলে তো চলবে না!’