চালের বাজার : এখনো দাম কমাননি খুচরা ব্যবসায়ীরা

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

চালের দাম কমবে কমবে করে মাস দেড়েক পেরিয়ে গেলো। অথচ এখনো ‘যেই লাউ সেই কদু’। খুচরা বাজারে এখনো মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৫ টাকার আশেপাশে; মাঝারি মানের চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে আর চিকন চালের দাম ৬০ টাকার ওপরে।
খুচরা বাজারে দেড় মাস আগের আর বর্তমান দামের মধ্যে খুব একটা হেরফের না হলেও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চালের আমদানি আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়েছে এবং দামও যথেষ্ট কমেছে।
গতকাল সোমবার চালের পাইকারি বাজার চাক্তাইয়ের বিভিন্ন দোকান ও আড়ত ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশীয় চালের সরবরাহ বর্তমানে খুব একটা না থাকলেও বিদেশি চালের আমদানি আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ভারত, মায়ানমার ছাড়াও নতুন করে চাল আসছে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান থেকে। ইদানিং পাকিস্তান থেকে একটা নতুন চাল আসছে, যেটি মানে ও গুণে বেশ ভালো। আর দামও অপেক্ষাকৃত কম। ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি এ চালের বর্তমান মূল্য ১ হাজার ৯৫০ টাকা। সে হিসেবে কেজিপ্রতি এর পাইকারি দাম পড়ে ৩৯ টাকা। বাজারে এসব ভালো মানের ও অপেক্ষাকৃত কম দামের চালের সরবরাহ থাকার কারণে অন্যসব চালের দামের ক্ষেত্রেও একটা ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
দেখা গেছে, বর্তমান পাইকারি বাজারে ইরি (মোটা আতপ) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ২৮ নম্বর বেতি ২ হাজার ২০০ টাকা, কাটারি পাইজাম ২ হাজার ৬০০ টাকা, কাটারি ভোগ ২ হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা, পারি (সিদ্ধ) ২ হাজার ৪৮০ টাকা, মিনিকেট (সিদ্ধ) ২ হাজার ৫০০ টাকা, চিনিগুড়া (আতপ) সাড়ে ৩ হাজার টাকা, বাসমতি জিরাশাইল ২ হাজার ৪৫০ টাকা আর দিনাজপুরী পাইজাম আড়াই হাজার টাকা।
উল্লিখিত চালগুলোর গত এক মাসের দামের সাথে বর্তমান দাম তুলনা করে দেখা যায়, বস্তাপ্রতি চালের দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে মাস দেড়েক আগে যে দাম ছিল, বর্তমানেও সেই একই দাম। সেই যে নানামুখী চাপে পড়ে কেজিপ্রতি ২ টাকা কমিয়েছিলেন, এরপর আর দাম কমাননি খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা। বহদ্দারহাট ও চকবাজারের কয়েকটি ছোট পাইকারি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তারা কেজিপ্রতি ইরি (মোটা আতপ) বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। ২৮ নম্বর বেতি ৪৬ টাকা, কাটারি পাইজাম ৫৩ টাকা, কাটারি ভোগ ৫৭ টাকা থেকে ৬২ টাকা, পারি (সিদ্ধ) ৫১ টাকা, মিনিকেট (সিদ্ধ) ৫২ টাকা, চিনিগুড়া (আতপ) ৭৪ টাকা, বাসমতি জিরাশাইল ৫০ টাকা আর দিনাজপুরী পাইজাম ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, পাকিস্তানি যে চালটি পাইকারি বাজারে ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা খুচরা বাজারে কয়েকটি দোকানে দেখা গেল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেনা দামের চেয়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১১ টাকা থেকে ১৩ টাকা বেশি দামে বিক্রির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রেতারা কথা বলতে রাজি হননি।
বহদ্দারহাটের খুচরা বিক্রেতা আলী আহমদ সওদাগরকে জিজ্ঞেস করা হয়, পাইকারি বাজারের হিসেবে খুচরা বাজারে চালের দাম এখনো বেশি কেন? তিনি বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েক হাত ঘুরে চাল আসে। তাই খুচরা বাজারে দাম কমতে একটু সময় লাগে।’
‘পাইকারি বাজার থেকে চাল কয়েক হাত ঘুরে খুচরা বাজারে আসে বলে সাথে সাথে দাম কমে না কথাটি ঠিক। কিন্তু মাস দেড়েকের ব্যবধানেও কেন আগের দামে চাল বিক্রি করছেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে আলী আহমদ সওদাগরের সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘জানি না।’
এদিকে চাক্তাইয়ের মেসার্স আরিফুর রহমান ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক এম সরওয়ার চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে দেশীয় চালের সরবরাহ কম হলেও বিদেশি চালের আমদানি বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে এবং শিগগিরই দাম কমতে পারে।’