চার পদ চার স্বাদ

Untitled-1

পেঁয়াজ পাকোড়া
বিকালের নাস্তায় পরিবেশন করতে পারেন এই গরম গরম পেঁয়াজ পাকোড়া। রেসিপি দিয়েছেন আনার সোহেল।
উপকরণ: বড় আকারের পেঁয়াজ ২টি (কাটার দিয়ে স্লাইস করে নিতে পারেন)। কাঁচামরিচ-কুচি ২টি। লবণ স্বাদ মতো। লালমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ। হলুদ গুঁড়া ১/৩ চা-চামচ। ভাজা জিরাগুঁড়া ১/৩ চা-চামচ। বেসন আধা কাপ। চালের গুঁড়া ২ টেবিল-চামচ। খুব অল্প পানি; মাখানোর জন্য।
পদ্ধতি: একটি বাটিতে পেঁয়াজকুচি ও পানি ছাড়া একে একে সব উপকরণ নিয়ে ভালো করে মেশান। হাতের মুঠোয় খুব অল্প অল্প পানি নিয়ে মাখাতে হবে। যখন দেখবেন পেঁয়াজের সঙ্গে বেসনের মিশ্রণ ভালোভাবে লেগে আছে, তখন বুঝবেন মাখানোটা ঠিক হয়েছে। কড়াইতে তেল গরম করে নিন। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে অল্প অল্প পেঁয়াজের মিশ্রণ পেঁয়াজুর মতো করে তেলে ছাড়ুন। সময় নিয়ে ভাজুন। বাদামি রং হয়ে আসলে তেল থেকে তুলে টিস্যুর উপর রাখুন যেন অতিরিক্ত তেল টেনে নেয়। গরম গরম টমেটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

পাউরুটির গোলাপজামুন
সকালের নাস্তার জন্য আনা পাউরুটি সব শেষ হয়নি! তাহলে ফ্রিজে ঢুকিয়ে না রেখে তৈরি করুন মজার মিষ্টান্ন। রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী তাসনুভা রোজ নওরিন।
উপকরণ: পাউরুটি ৬ টুকরা। গুঁড়াদুধ ২ টেবিল-চামচ। ক্রিম বা মাওয়া ১ টেবিল-চামচ। তরল দুধ দু-তিন টেবিল-চামচ বা পরিমাণ মতো।
কেরামেলের জন্য: চিনি ১ কাপ। পানি ১ কাপ। এলাচ ২,৩টি।
পদ্ধতি: চুলায় চিনির সিরা করে রাখুন তবে ঘন যেন না হয়। একটা বলক উঠলেই বন্ধ করে দেবেন। অন্যদিকে পাউরুটির শক্ত কিনারগুলো কেটে ফেলে দিন। তারপর পাউরুটি মিহি ব্লেন্ড করে নিন। এবার সাথে গুঁড়াদুধ, মাওয়া ও তরল দুধ মিশিয়ে ডো বানিয়ে নিন। তবে খুব বেশি শক্ত যেন না হয়। এবার গোল গোল আকার দিয়ে হালকা গরম তেলে ভেজে নিন। সময় নিয়ে ভাজুন। অন্যদিকে সিরার চুলাটা জ্বালিয়ে রাখুন। জামুন ভাজা হলে গরম সিরায় দিয়ে দুএক মিনিট জ্বাল দিয়ে ঢেকে রেখে দিন তিন থেকে চার ঘণ্টা। এরপর তুলে পরিবেশন করুন মজার তুলতুলে গোলাপজামুন।

চাল কুমড়ার মোরব্বা
সবজি দিয়ে তৈরি করুন মজার এই মিষ্টান্ন। রেসিপি দিয়েছেন বীথি জগলুল।
উপকরণ: বড় পাকা চাল-কুমড়ার অর্ধেক। ঘি আধা কাপ। গুঁড়াদুধ ১ কাপ। কোড়ানো নারিকেল ১ কাপ। কিশমিশ ১ কাপ। চিনি ২ কাপ। পানি ৪ কাপ। এলাচগুঁড়া দেড় চা-চামচ।
পদ্ধতি: চাল কুমড়া তিন-চার টুকরা করে ছিলে ভেতরের দানাসহ নরম অংশটুকু ফেলে দিন। তারপর চাল-কুমড়ার চারদিকে কাঁটাচামচ দিয়ে ভালো করে কেঁচে এক-দেড় ইঞ্চি করে টুকরা করে ভালো করে ধুয়ে নিন। চুলায় পানি ফুটিয়ে টুকরা করা চাল-কুমড়াগুলো সিদ্ধ করুন। তারপর পানি ঝরিয়ে ঠাণ্ডা করে হাত দিয়ে চেপে চেপে পানি বের করে নিন। এর ফলে টুকরাগুলো আকারে ছোট হয়ে যাবে। একটি প্রশস্ত প্যান গরম করে তাতে ঘি দিয়ে মৃদু আঁচে চাল কুমড়াগুলো হালকা বাদামি করে ভেজে একপাশে রাখুন। হাঁড়িতে পানি, চিনি, দুধ, নারিকেল ও কিশমিশ মিশিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। দুধ ফুটে উঠলে ভেজে রাখা চাল-কুমড়া ও অর্ধেক এলাচগুঁড়া মিশিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দেবেন।
দুধ শুকিয়ে কুমড়ার সমপরিমাণ হলে বাকি এলাচগুঁড়া মিশিয়ে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন দারুন মজার চাল-কুমড়ার মোরব্বা।

মুরগির চাপ
ঢাকাইয়া ঢংয়ে মুরগির চাপের সাথে স্পেশাল সালাদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পি রাফিয়া মর্তুজা ।
উপকরণ: ১টা মুরগির বুকের মাংস। গরম মসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ। ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ। লালমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ। লবণ ১ চা-চামচ। পানি ঝরানো টক দই ১ টেবিল-চামচ। আদাবাটা ১ চা-চামচ। রসুনবাটা ১ চা-চামচ। সরিষার তেল ১ চা-চামচ। সরিষাবাটা ১ চা-চামচ। গোলমরিচ গুঁড়া ১/৪ চা-চামচ। বেসন ১ কাপ। তেল ভাজার জন্য।
পদ্ধতি: মুরগির বুকের মাংস চার টুকরা করুন। টুকরাগুলো পাতলা হতে হবে। এবার উড হ্যামার বা ছুরির পেছনে কাঠের অংশ দিয়ে আস্তে আস্তে মাংসগুলো থেঁতলে পাতলা করে নিন। এখন মাংসে তেল ও বেসন বাদে বাকি সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে এক ঘণ্টা মেরিনেইট করুন। তারপ মাংসগুলো নিয়ে বেসনে রেখে চেপে চেপে দুপাশে ভালো মতো বেসন মাখিয়ে নিয়ে হালকা ঝেড়ে নিন। সবগুলো একইভাবে বেসনে গড়িয়ে নিতে হবে। একটা প্যানে ১ কাপ তেল নিয়ে গরম করে একটা একটা মাংসের টুকরা মাঝারি আঁচে লালভাব হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। তারপর তুলে টিস্যুর উপর রাখুন। এতে বাড়তি তেল শুষে নেবে। গরম গরম লুচি ও স্পেশাল সালাদ দিয়ে পরিবেশন করুন।
স্পেশাল সালাদ
উপকরণ: শসাকুচি ১ কাপ। গাজরকুচি ১/৪ কাপ। পেঁয়াজকুচি ১ টেবিল-চামচ। কাঁচামরিচ-কুচি সামান্য। ধনেপাতা-বাটা ১ চা-চামচ। টক দই ২ টেবিল-চামচ। টমেটো সস ১ টেবিল-চামচ। তেতুলের কাঁথ ১ টেবিল-চামচ। বিট লবণ ১ চিমটি। গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ। লবণ স্বাদ মতো। টালা-জিরাগুঁড়া ১/৪ চামচ।
পদ্ধতি: সব উপকরণ একসাথে নিয়ে ভালো মতো মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে চাপের সাথে পরিবেশিত স্পেশাল সালাদ।