চারম্নকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় কর্ণফুলীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেই এক রাজকন্যার কানের দুল হারানোর পর নদীটির নাম হলো কর্ণফুলী। এই নদী এই জনপদের অসিত্মত্ব। কর্ণফুলীকে ঘিরে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। আর সেই নদীই এখন দূষণ আর দখলে অসিত্মত্ব হারাচ্ছে। সেজন্য আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে নদী কর্ণফুলীকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছি। এমনটাই বললেন চারম্নকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত দাশ।
নদী বাঁচানোর দাবি নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারম্নকলা ইনস্টিটিউট শিড়্গার্থীরা। এই প্রথম চারম্নকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় সামাজিক দাবিও ওঠে এলো। সেই সাথে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় : ‘নন্দিত স্বদেশ নন্দিত বৈশাখ’।
পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর বাদশা মিয়া রোডের চারম্নকলা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছিল র্যাব-পুলিশের নজিরবিহীন নিরাপত্তা। শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসার পর এবার বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস’া নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। শোভাযাত্রার মোটিভগুলোর মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে সাম্পান, কর্ণফুলীর লোকায়ত কাহিনির সেই রাজকন্যা। এমনকি ম্যুরালেও এসেছে কর্ণফুলীর ইতিহাস ও সংস্কৃতি।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে
শোভাযাত্রায় যোগ দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিড়্গক-শিড়্গার্থী ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল রাজকন্যার আদলে মুখোশ। তার দুকানের একটিতেই শুধু দুল আছে। দুচোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। এভাবেই এখানে হারিয়ে যাওয়া কর্ণফুলীর সেই লোকায়ত কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।এছাড়া শোভাযাত্রার সামনে-পেছনে ছিল বড় আকৃতির সাম্পান, মাছ, পেঁচা ও হাঁসের প্রতিকৃতি। হাতে হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, মুখোশ। ঢোলবাদ্য বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে শিড়্গার্থীরা এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি চট্টেশ্বরী রোড থেকে আলমাস সিনেমা, কাজীর দেউড়ি, আসকার দিঘির পাড়, জামালখান হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ঢল নামে মানুষের। ছিল কর্ণফুলী বাঁচানোর আকুল আহ্বানও।