চাকসু নির্বাচন চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

চবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভোট যদি সুষ্ঠু না হয় তবে যারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে তারা জিতল কীভাবে? সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বিধায় যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারাও জয়লাভ করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে ভিপিসহ অন্যান্য পদে তাদের পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব হতো না।
তবে কিছু ভুল-ত্রুটির কথা প্রশাসন স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। কিন’ ২৮ বছর পর যে নির্বাচন হয়েছে এটাই ইতিবাচক দিক। আশা করছি শীঘ্রই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও চাকসু নির্বাচনের আয়োজন করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) রসায়ন বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ হয় গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত, গবেষণার জন্য সরকারের কাছে আরও ফান্ড চাওয়া। কেননা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কতজন শিক্ষার্থী, তা দিয়ে র্যাঙ্কিং হয় না, বরং গবেষণায়ই পারে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে। আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে এতো গবেষণা হয়, সেখান থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে দেশ উন্নত হয় না। পশ্চিমা দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও মানুষের মধ্যে মানবিকতা বোধ হারিয়ে গেছে। আমরা তেমন উন্নয়ন করতে চাই না, যেখানে মানবতা নেই।’
সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন. ‘আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের আগে থাকতো। তারপরও শেখ হসিনা সরকারের আমলে দেশে এত উন্নয়ন হয়েছে যে, ১০ বছর আগে বিদেশে যাওয়া মানুষ এখন দেশে এসে শহর আর গ্রামের পার্থক্য করতে পারে না। কারণ সবকিছুতে উন্নয়ন হয়েছে, আগের চিত্র বদলে গেছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রি দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নয়। জ্ঞান সৃজন ও বিতরণই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। শুধু মেধা বিকাশের মাধ্যমে ভালো মানুষ তৈরি করা যায় না। মেধার সাথে মনুষ্যত্ববোধের সমন্বয় করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার সাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করে একটি যুগোপযোগী জাতীয় শিক্ষানীতি দেশ-জাতিকে উপহার দিয়েছেন। এরই আলোকে আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-গবেষণায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশ-জাতির উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রেখে চলছে।’
উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ সুরক্ষাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের নামে বিভিন্ন স’াপনা প্রতিষ্ঠা করেছে। এককথায় বলা যায় চবিতে বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
যা দেশ-বিদেশে সুধীমহলের কাছে ইতোমধ্যে সমাদৃত হয়েছে।’
রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিনের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, পিকেএসএফ এর ব্যবস’াপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম ও চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম।
এর আগে সকাল ১০টায় রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দুদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সেমিনার, র্যাফল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।