চসিক লাইব্রেরি : ‘মনের হাসপাতালটি’র সঠিক পরিচর্যা চাই

সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী লাইব্রেরিকে ‘মনের হাসপাতাল’ বলেছেন। এটি কেবল ব্যক্তির মানসিক উৎকর্ষতা বাড়ায় তা নয় বরং লাইব্রেরি জাতির মননশীলতা ও সৃজনশীলতার সুবর্ণ আধার। কেবল বৈষয়িক সমৃদ্ধি ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের আরাধ্য হতে পারে না, জাতির এগিয়ে চলার জন্য চাই সাহিত্য, সংস্কৃতি শিল্পকলা তথা মানবসম্পদের পরিপূর্ণ আয়োজন। লাইব্রেরি সেই আয়োজনের এক অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম।
শতবর্ষের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন লাইব্রেরি ভবনটি সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে চট্টগ্রামের সকল বয়সী পাঠক যে জ্ঞান পিপাসা মেটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আমাদের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরিটি। সমুদয় বইপত্র, আসবাবপত্র বিবিরহাটস্থ সিটি করপোরেশনের একটি ভবনে স্থানান্তর ও বইগুলি বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছে। লালদীঘিপাড়স্থ আগের লাইব্রেরি ভবনটি ভেঙে নতুন করে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে, এমনটিই চসিক সূত্রে জানা গেছে। মেয়র বলেছেন, উপযুক্ত জায়গায় দ্রুত লাইব্রেরি চালু করা হবে।
চসিক লাইব্রেরিটি চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। এটিকে ত্রিকালের সাক্ষীও বলা যেতে পারে। লাইব্রেরিতে দুর্লভ অনেক বই ও সাময়িকী রয়েছে। চট্টগ্রামের নামকরা শিক্ষাবিদ, পণ্ডিত ও গবেষকরা এই লাইব্রেরির সহায়তা নিয়েছেন তাদের গবেষণায়, শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো বই পেয়েছে, সাধারণ পাঠকরাও পত্রিকা, সাময়িকী ও পছন্দের বই পড়তে লাইব্রেরিতে আসতেন নিয়মিত।
লাইব্রেরি ভবনটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় নতুন করে এর নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। চসিক নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করার কথা বলেছে, এটি ভাল প্রচেষ্টা, তবে সকল বয়সী পাঠকের সুবিধার্থে যেকোন ভাবে লাইব্রেরি চালু রাখা আবশ্যকীয় ছিল। উন্নত দেশে লাইব্রেরি দিন-রাত খোলা থাকে। এর কার্যক্রম সাময়িক হলেও বন্ধ রাখা উচিত নয়। সিটি করপোরেশন সাময়িক ব্যবস্থা করে লাইব্রেরি চালু রাখার ব্যবস্থা নিতে পারতো এবং তা নগরবাসীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিযুক্ত ছিল।
বই বস্তাবন্দি করে রাখলে এগুলির ক্ষতি হবে, দুষ্প্রাপ্য পুরনো বইগুলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। আমরা মনে করি বইগুলির যত্ন, পরিচর্যায় চসিক বিহিত ব্যবস্থা নেবে, এজন্যে উত্তম উপায় হচ্ছে দ্রুতই লাইব্রেরি চালু করা।
নগরীতে সিটি করপোরেশনের বেশকিছু ভবন/ স্থাপনা রয়েছে, সেখানে কিংবা কোন বাড়ি ভাড়া করে হলেও লাইব্রেরি চালু করতে পারে চসিক। কোন অবস্থাতেই পাঠক-শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। আমাদের পাঠচর্চা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে, এটি সুস্থতার লক্ষণ নয়। কিশোর-তরুণদের বইমুখি করতে এবং জ্ঞান অন্বেষণে সহযোগিতা করতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট পাঠাগার গড়ে তোলা যায়। এ ব্যাপারে চসিক চিন্তাভাবনা করতে পারে।