চসিকের গৃহকর অনলাইনে নিতে আগ্রহী ৯টি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ্ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব ও হিসাব বিভাগের অটোমেশন কাজ এগিয়ে চলেছে। অটোমেশন কাজের জন্য ‘এটিএন অ্যান্ড আরকে সফটওয়্যার লিমিটেড’ নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অটোমেশন কাজ সম্পন্ন হলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে চসিকের রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার যাবতীয় ফি ‘অনলাইন ব্যাংকিং’র মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। অনলাইনে টাকা গ্রহণ করতে আগ্রহী সরকারি/বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব আহ্বান জানিয়ে গত ১৯ জুন পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান করে সিটি করপোরেশন। ৩০ জুন ছিল দরপত্র দাখিল করার শেষ সময়। এ সময়ের মধ্যে অনলাইনে চসিকের গৃহকরসহ অন্যান্য ফি গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে নয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ফি গ্রহণে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করেছিল চসিক।
চসিকের আইটি শাখা জানায়, ব্যাংকগুলো হলো-সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথ-ইস্ট ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক।
চসিকের আইটি অফিসার মো. ইকবাল হাসান জানান, নয়টি ব্যাংকের কারিগরি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। পর্যালোচনায় যে সব ব্যাংক উত্তীর্ণ হবে এবং নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইনে টাকা গ্রহণ করতে পারবে, তাদেরকে আর্থিক প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য নির্বাচিত করা হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইনে টাকা গ্রহণের জন্য একটি ব্যাংক নির্বাচিত হবে।
অটোমেশন কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে মো. ইকবাল হাসান বলেন, ‘নতুন হোল্ডিংগুলো ছাড়া পুরাতন হোল্ডিংগুলোর ডাটা এন্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স ও হিসাব বিভাগের ডাটা এন্ট্রি চলছে। আগস্ট মাসের মধ্যে ডাটা এন্ট্রির কাজ শেষ হতে পারে।’
‘আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ্ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যারসহ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সার্ভার, যন্ত্রাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনি পায়নি চসিক।
এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান জানান, অটোমেশন সম্পন্ন হলে রাজস্ব বিভাগ ও এস্টেট শাখার সকল ফি অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। ঘরে বসে অনলাইনে গৃহকর পরিশোধ, অ্যাসেসমেন্ট তথ্য, নতুন হোল্ডিংয়ের জন্য আবেদন, হোল্ডিংয়ের নাম পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন, অংশ ভাগের আবেদন করা যাবে। একইভাবে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ফি, মার্কেটের দোকান ভাড়া, উন্নয়ন চার্জ, ইজারাকৃত সম্পত্তির যাবতীয় কর/ফি/ভাড়া অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। চসিকের টোটাল একাউন্ট সিস্টেম অনলাইনে চলে যাবে। এস্টেট শাখার আয়-ব্যয়সহ সকল আর্থিক লেনদেন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনলাইনে টাকা গ্রহণের জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংককে নির্বাচিত করেছে।