চসিকের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বদলির সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির ব্যাপারে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন একটি ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’ গঠন করেছেন।
গতকাল সোমবার বিকালে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শিক্ষা ও স্বাস’্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে কোন ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন না হওয়ার জন্য গঠিত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটি বদলির ব্যাপারে প্রাথমিক তালিকাভুক্ত এমপিও শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করবেন। তালিকা শতভাগ বিচার-বিশ্লেষণ করে এক মাসের মধ্যেই বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে মেয়র আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আগামী তিন দিনের মধ্যে কোন শিক্ষক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত এবং কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, সে সব তথ্য তৈরির জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
মেয়রের প্রেস সচিব উজ্জ্বল দত্ত জানান, ‘গঠিত ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সদস্য সচিব হিসেবে চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, সদস্য হিসেবে কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব ও মোজাহেরুর ইসলাম চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করবেন। এদের মধ্যে ১১জন প্রধান শিক্ষক এবং ৬৩ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন।
সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চালাতে হবে আবার ভর্তুকিও কমানোর যথাসাধ্য উদ্যোগ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সকল এমপিওবিহীন শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে চসিকের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বদলির সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।
কারণ এমপিওবিহীন শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হলে এবং পুরোনো এমপিওদেরকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বদলি করা না হলে এমপিও নীতিমালার জন্য জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তাদের জয়েনিং প্লেসে বা যে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এমপিওভুক্ত হয়েছেন, সেখানে বদলি বা পদায়ন করা হচ্ছে।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কমিটি এমপিও শিক্ষকদের প্রাথমিক তালিকাভুক্তি বিচার-বিশ্লেষণ করবে। কারো ব্যাপারে কোন ধরনের তথ্য-উপাত্তগত ক্রটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে প্রাথমিক তালিকাটি পুনঃমূল্যায়ন করে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে।’
গতকালের সভায় গঠিত কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট স’ায়ী কমিটি পর্ষদ ও কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন।