চট্টলবীরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

চশমা হিলে ছিল ভক্ত ও অনুরাগীদের বাঁধভাঙা ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোর হতেই চশমা হিলের বাসা লোকে লোকারণ্য। সবার হাতে-হাতে ফুলের তো-া। সর্বস্তরের মানুষের চোখ ছিল অশ্রুসজল। গতকাল ছিল ‘চট্টলবীর’ খ্যাত এ বিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসে চট্টলবাসী। তাতে রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে দেখা গেল পেশাজীবী মানুষের ঢল। চশমা হিলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি ফাতেহা পাঠও করা হয়।
বাড়ির পাশের কবরটি ফুলে-ফুলে ছেয়ে গেছে। চশমা হিলের চারপাশ সাদাকালো ব্যানার-ফেস্টুনে ছিল শোকের আবহ। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ সকাল থেকে একে একে চট্টলবীরের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন।
সুদূর রাঙ্গুনিয়া থেকে চাকুরিজীবী সামশুল আলম সোহেল এসেছিলেন তাঁর কবরে ফুল দিতে। আবেগতা-িত কণ্ঠে তিনি বললেন, একজন মানুষ কত জনপ্রিয় হলে মানুষের ভালোবাসা উপচে পড়ে, সেই দৃশ্যই আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেখলাম। তাঁর অভাব কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। এমন বহুগুণের প্রতিভাবান মানুষ কোনোদিন দেখি নাই।
প্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাদাকালো ছবির সদা হাস্যোজ্জ্বল চাহনির দিকে তাকিয়ে বন্দরটিলা থেকে আসা তরুণ ছাত্রনেতা সালাহউদ্দিন বাবর বললেন, যোগ্যতা ও সাহসিকতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর আদর্শ আমাকে এখনো আন্দোলিত করে। আমার মতো অনেক তরুণের তিনি আজো পথপ্রদর্শক। তাঁর দীপ্ত কন্ঠ আমাদের জাগরণ ঘটায় প্রতিনিয়ত।
অধিকার আদায়ে, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরীর স্বপ্ন দেখানো মানুষের মন জয় করা সাবেক এই নগরপিতাকে নিয়ে আরেক ছাত্রনেতা রাজেশ বড়-য়া বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি রাজপথে ছিলেন। তিনি প্রজন্ম পরম্পরায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রতিবছর বিজয় মেলা আয়োজন করে বিরল অবদান রেখে গেছেন তিনি।
আরেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রিটন বলেন, তাঁর জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনার জন্য আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়তাম। যা আমাদের আন্দোলনে আরো সক্রিয় করতো।
বাষট্টি বছর বয়সের কফিল উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না। প্রয়াত মহিউদ্দিনের চৌধুরীর ভক্ত হয়ে এসেছেন তাঁর কবরে ফুল দিতে। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু প্রতিবাদ করে গেছেন। এমনকি জনস্বার্থবিরোধী নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন বরাবর। তাই সর্বমহলে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তাঁকে আজীবন এই বুকে ধারণ করে রাখব।