চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ জমিতে মটরশুঁটির চাষ

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

মিরসরাইয়ে মটরশুঁটি আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ মটরশুঁটি চাষ হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে মটরশুঁটি চাষে ঝুঁকছে কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১০ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটি চাষ হয়েছে। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ৫ হেক্টর। এর চাষাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাবাদী কৃষক এবং কৃষি বিভাগও। উপজেলার সবচেয়ে বেশি মটরশুঁটি চাষ হয়েছে ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়ন চলতি বছর ৭ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটি চাষ হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানায়, বেলে-দো-আঁশ মাটিতে মটরশুঁটি বেশি ভালো ফলন হয়। মটরশুঁটি রবি মৌসুমের ফসল। জমিতে মাত্র একবার চাষ দিয়েই অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মটরশুঁটির বীজ বপন করা হয়। এরপর আর ব্যয় তেমন নেই বললেই চলে। বিঘা প্রতি ১২ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। জমিতে শুধু টিএসপি ও পটাশ সারের প্রয়োজন হয়। সেচের দরকার হয় না বললেই চলে। তিন দফায় গাছ থেকে মটরশুঁটি সংগ্রহ করা হয়। সব মিলে এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় কমপক্ষে ২৫ মণ মটরশুঁটি। আর বাজার দর প্রতি মণ ২হাজার ৫’শ টাকা হিসেবে মোট আয় আসে ৬২ হাজার টাকা। আমন ও আউশ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে মটরশুঁটি চাষ করা হয়। ফলে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে মটরশুঁটি। ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর শেখের তালুক গ্রামের কৃষক মো. রফিক জানান, তিনি আমন ধান ঘরে তোলার পর ওই জমিতে মটরশুঁটি চাষ করেছেন। তিনি ১ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটি চাষ করেছেন। বর্তমানে ফুল এসেছে।এছাড়া মটরশুঁটি চাষে উপজেলা কৃষি অফিস যথেষ্ঠ সহায়তা করছে বলে তিনি জানান। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফয়জুল জানান, তিনি ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তার আওতাধীন মধ্যম ওয়াহেদপুর ব্লকে ৫ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটি চাষ হয়েছে। ধীরে ধীরে কৃষক মটরশুঁটি চাষে ঝুঁকছে কৃষক। মিরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে না হলেও পরিবারের সারা বছরের ডালের চাহিদা মেটাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা মটরশুঁটি চাষ করছে। সবজি কিংবা আমিষের বিকল্প হিসেবে মটরশুঁটি তুলনাহীন। মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ মটরশুঁটি চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের এখন থেকে মটরশুঁটি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করছি শিগগিরই ব্যাপক হারে চাষ হবে এই উৎপাদনমুখী কৃষি পণ্য।