বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

চলতি বছরে শুরু হবে নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নকশা তৈরির কাজ শেষ করতে চায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে শেষ হওয়া সমীক্ষা প্রতিবেদন হাতে পেলে চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা এ বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হবে। গতকাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী জানান, ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল পদ্মার পাড়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সব ঠিক থাকলে ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন করা হবে চলতি সালেই। প্রথম ধাপে পাঁচ বছর ধরে কাজ করা হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ১০ বছরে। এটি নির্মিত হলে সারাদেশের সড়ক, নৌ, রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে অত্যাধুনিক এ বিমানবন্দর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থাকা তিনটি রানওয়ের প্রতিটিরই আয়তন হবে ১২ হাজার ফুট।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে জাপানি সংস’া ‘নিপ্পনের’ সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দ্বিতীয় দফার সমাঝোতায় পৌঁছায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ সংস’াকে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অত্যাধুনিক এ বিমানবন্দর বিশ্বের উল্লেখযোগ্য একটি মেগা প্রকল্প হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বড় আকারের বিমানবন্দর গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল মহাজোট সরকার।
জাপানি প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব পায়। ২০১২ সালের জুনে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অপরদিকে ২০১৫ সালে মূল বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়ে তা শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালে। আট হাজার একর জমির ওপর মূল বিমানবন্দরসহ মোট ১০ হাজার একর জমিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।
নিপ্পন কোই মুন্সিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও মাদারীপুরে সম্ভাব্য স’ান খুঁজতে শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিলকে এ বিমানবন্দরের জন্য ঠিক করা হলেও স’ানীয়দের আন্দোলনের মুখে তা স’গিত করে নতুন স’ান খুঁজতে থাকে সরকার। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বিমানবন্দর নির্মিত হবে পদ্মার পাড়ে।