হারবাং-ফাইতংয়ে ইটভাটা

চলছে পাহাড় আর বনখেকোদের তাণ্ডব

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার হারবাং মানিকপুরে ১১টি ও পাশের ফাইতং ইউনিয়নের বনাঞ্চলের ভেতরে ২২টিসহ সর্বমোট ৩৩টি ইটভাটা পুরোদমে চালু হয়েছে নভেম্বর থেকে। বর্তমানে এসব ইটভাটায় প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের লাখ লাখ মণ কাঠ। অভিযোগ উঠেছে ইটভাটা মালিকরা বনবিভাগের একাধিক চেক পোস্টকে ম্যানেজ করে কক্সবাজার উত্তর, লামা বনবিভাগ ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সংরক্ষিত এবং রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে চোরাকারকারীদের মাধ্যমে এসব কাঠ সংগ্রহ করছেন। এ অবস্থার কারণে এলাকায় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটলেও কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের কর্মকর্তারা পালন করছে নীরব দর্শকের ভুমিকা। চকরিয়া উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম প্রতিবছর ইটভাটা মালিকদের সাথে বোঝাপড়া করে চলতেন। ফলে তিনি কর্মরত অবস্থায় তাঁর অধীন এলাকা চকরিয়া ও লামা উপজেলার ফাইতংয়ের একটি ইটভাটাতেও কোন ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়নি। ওই কর্মকর্তা ইতোমধ্যে কক্সবাজার থেকে বদলি হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সর্দার শরিফুল ইসলামের পথধরেই হাঁটছেন স্টেশনে যোগদান করা নবাগত কর্মকর্তা সাইফুল আশ্রাব।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবছর চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাংয়ে ৪টি, মানিকপুরে সাতটি ও পাশের লামা উপজেলার ফাইতংয়ে ২২টি সহ মোট ৩৩টি ইটভাটা গত নভেম্বর মাস থেকে পুরোদমে চালু করা হয়েছে। বেশির ভাগ ইটভাটার অবস্থান বনাঞ্চলের ভেতরে। অভিযোগ রয়েছে, ভাটাগুলো চালু করার প্রাক্কালে সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকরা স্কেভেটর গাড়ি দিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক পাহাড় কেটে সমতল করেছেন। আবার অনেকে পাহাড় কেটে এসব মাটি ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। অপরদিকে এসব ইটভাটায় বর্তমানে জ্বালানি হিসেবে যোগান দেয়া হচ্ছে কক্সবাজার উত্তর, লামা বনবিভাগ ও চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বনবিভাগের একাধিক চেক পোস্টকে ম্যানেজ করে বর্তমানে প্রতিদিন এসব ইটভাটায় গাড়িযোগে পাচার করা হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইটভাটার মালিকেরা মৌসুম শুরুর আগেই জ্বালানি হিসেবে পাশের বনাঞ্চলের গাছ কিনে নেয়। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর মাধ্যমে বনকর্মীরা যোগসাজস করে সরকারি বনাঞ্চলের গাছ বিক্রি করে থাকে। এরপর মৌসুমের সময় ইটভাটার মালিকরা নিজেদের লোক দিয়ে বনাঞ্চলের গাছগুলো কেটে নিয়ে যায়। চকরিয়ার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক জানান, চকরিয়া উপজেলার পাহাড়কাটার ঘটনাটি ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাবকে অবহিত করা হয়। তিনি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ সাপেক্ষে এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরও তিনি ইটভাটাগুলোতে কোন অভিযান করেননি । চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাহাব উদ্দিন জানান, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের নলবিলা বিটের অধীনের কাকারা মৌজার খেদারবান এলাকায় তার ৪ একর বনভূমি আছে। ওই বনভূমিতে বিপুল গাছ ছিল। এবছর বাগানের এসব গাছ তিনি ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন। তার পাশে কাজী ফারুক নামের অপর বাগান মালিক এবছর ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ টাকার বনাঞ্চলের কাঠ বিক্রি করেছে। এসব কাঠ ফাইতংয়ের ইটভাটার মালিকেরা কেটে নিয়ে গেছে। এসব বনভূমি বর্তমানে ন্যাড়া হয়ে গেছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল দাবি করেছেন, এসব ইটভাটায় কি পরিমাণ বনাঞ্চলের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিধন করা হয়েছে তা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।