চমেক হাসপাতাল রোগীর ‘ভুয়া’ স্বজন সেজে শুনানিতে মিথ্যা অভিযোগ ‘চাকরিচ্যুতদের চক্রান্ত’ বলে মনে করছেন হাসপাতাল পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের গণশুনানিতে রোগীর ভুয়া স্বজন সেজে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গেল বুধবার হাসপাতালে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে কোহিনুর আকতার নামে এক নারী রোগীর স্বজন পরিচয়ে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শাকেরা বেগম নামের এক রোগীকে তার মা পরিচয় দিয়ে কোহিনুর গণশুনানিতে অভিযোগ দেন যে, তার মাকে নার্সের পরিবর্তে ইনজেকশন পুশ করেছে একজন সুইপার।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান ওই স্বজনকে।
শনিবার শাকেরা বেগমকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার পর কোহিনুর আকতার হাসপাতালে উপপরিচালককে ফোন করে অভিযোগ করেন, তিনি শুনানিতে অভিযোগ করায় তার মাকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হয়রানিরও অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন’ তদন্তে
বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল!
কোহিনুর আকতার নামের কোনো মেয়েই নেই শাকেরা বেগমের। এমনকি শুনানিতে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতাল ছাড়তে বলেনি বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর চমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন শাকেরা বেগমের সাথে। তাদের কাছে শাকেরা বেগম এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ।
তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমরা বিস্মিত। কোহিনুর আকতার নামের যে নারী গণশুনানিতে অভিযোগ দিয়েছেন সে আসলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর কেউ নয়। সে রোগীর ভুয়া স্বজন সেজে শুনানিতে গিয়ে অভিযোগ করেছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা দেখে আমরা এখন সেই নারীর পরিচয় বের করার চেষ্টা করছি।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমরা হাসপাতাল থেকে অবৈতনিক স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয়দের কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলাম। এরপর আউটসোর্সিং হিসেবে কিছু লোক নিয়োগ দিয়েছিলাম। মনে হচ্ছে, অব্যাহতি পাওয়া আয়া–বয়রা চক্রান্ত করে আমাদের চাপে ফেলতে এ কাজ করতে পারে।’
‘যাচাই-বাচাই ছাড়া গণমাধ্যমে এভাবে সংবাদ প্রকাশ করাটা দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ বলেন।
জানা গেছে, শাকেরা বেগমকে কোনো ইনজেকশন পুশ করা হয়নি। তার হাতে স্যালাইনের ক্যানোলা লাগানো হয়েছিল।
চর্ম ও যৌনরোগ ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্টার ডা. মোসাম্মাৎ সুলতানা আকতার গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, যেদিন শুনানিতে অভিযোগ করা হয় সেদিন বিকেল তিনটা পর্যন্ত আমি ওয়ার্ডে ছিলাম। শাকেরা বেগম তো চাইলে আমার কাছে অভিযোগ দিতে পারতেন। কিন’ তিনি তো আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোহিনুর আকতার নামের যে মহিলা শুনানিতে অভিযোগ করেছেন, তিনি শাকেরা বেগমের সম্পর্কে কি হয় তা আমি জানি না। শাকেরা বেগম যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন দু-একদিন তার কাছে মুখে কাপড় বেঁধে এক মহিলা আসতেন। তাকে আশেপাশের কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলতে দেখেছিলাম।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত স্বজন কোহিনুর আকতার চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের মহিউদ্দিন নামের যে সুইপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি আউটসোর্সিং হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তার আসল নাম নুরুল হুদা মহিউদ্দিন।
উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ চমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈতনিকভাবে কর্মরত সাড়ে তিনশ স্পেশাল আয়া-ওয়ার্ডবয়কে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাদের অব্যাহতি দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ১০৯ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়।