চমেক হাসপাতাল প্রকৌশলীর অভাবে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্র!

পদ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে : পরিচালক

সিফায়াত উল্লাহ
cmch (1)

রেডিওথেরাপি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এনজিওগ্রাম, ইটিটি’র মতো যন্ত্রপাতি দেখভালের জন্য বায়োমেডিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল প্রকৌশলীর প্রয়োজন। কিন’ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পরেও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এ ধরনের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। তাই অদক্ষরা চালাচ্ছেন হাসপাতালের এসব মেশিন। এতে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে সেগুলো। ফলে একদিকে যেমন কোটি টাকার মূল্যবান সরঞ্জামাদি অকেজো হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বায়োমেডিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বাছাই, স’াপন, ইলেকট্রনিক সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয়, ব্যবস’াপনা, তদারকি, পর্যবেক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করে থাকেন। রেডিওথেরাপি, এনজিওগ্রাম, ইটিটি, সিটিস্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এধরনের প্রকৌশলী ছাড়া পরিচালনার নিয়ম নেই। কারণ এসব মেশিন থেকে ক্ষতিকর রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন ধাতু বের হয়, এতে বাড়ে স্বাস’্যঝুঁকি। এছাড়াও মূল্যবান যন্ত্রগুলো অদক্ষ কেউ পরিচালনা করলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে নষ্ট হয় কোটি টাকার সম্পদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগ নিরূপনের জন্য সিটি স্ক্যান, এমআরআই, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, রেডিওথেরাপির মতো মূল্যবান মেশিন হাসপাতালে রয়েছে। এছাড়াও নতুন আরো কিছু মেশিন হাসপাতালে আনা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে গেছে, হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের সিটি স্ক্যান, এক্স-রে মেশিনসহ বেশকিছু রোগ নিরূপন যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপি মেশিনটিও দীর্ঘদিন নষ্ট। নতুন দুটি মেশিন আনা হলেও জটিলতার কারণে এখনো স’াপিত হয়নি। হৃদরোগ বিভাগের এনজিওগ্রাম-ইটিটি যন্ত্রগুলোও দীর্ঘদিন অকেজো।
এদিকে, প্রকৌশলীদের অনুপসি’তিতে মূল্যবান মেশিনগুলো ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও নিয়ম মানছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টেকনোলজিস্টরা এসব যন্ত্রপাতি চালাচ্ছেন। যাদের এবিষয়ে কোনো একাডেমিক জ্ঞান নেই। এজন্য সঠিকভাবে রোগ নিরূপন হচ্ছে কিনা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে অদক্ষদের পরিচালনার কারণে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি, কমছে মেয়াদ।
হাসপাতালের এক ওয়ার্ড মাস্টার বলেন, অনেক সময় মেশিনগুলো খারাপ হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে স্বাস’্য বিভাগের প্রকৌশলীরা এসে সেগুলো ঠিক করেন। অন্যথায় যে কোম্পানি থেকে মেশিন ক্রয় করা হয়েছে, সেই কোম্পানির লোকজন এসে ঠিক করে যায়। তবে অনেকসময় তা বিলম্ব হয়। যার ফলে রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন। হাসপাতালের নিজস্ব প্রকৌশলী থাকলে হয়তো এধরনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলতো।
এব্যাপারে হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুভাষ মজুমদার সুপ্রভাতকে বলেন, সিটি স্ক্যানসহ কয়েকটি মেশিন দীর্ঘদিন নষ্ট। তিনি এসব মেশিন পরিচালনার জন্য ইঞ্জিনিয়ার থাকা প্রয়োজন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, যন্ত্রপাতি দেখভালের জন্য হাসপাতালে কোনো প্রকৌশলী নেই। যার কারণে অনেক সময় বেগ পেতে হয়। তবে কিছু কর্মী এগুলো পরিচালনায় দক্ষ হওয়ায় তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না।
তিনি বলেন, হাসপাতালে বায়োমেডিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পদ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। কর্তৃপক্ষ পদ সৃষ্টির অনুমোদন দিলে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসার শেষ আশ্রয় এই হাসপাতাল। ১ হাজার ৩১৩ শয্যার প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। জরুরি বিভাগে ভর্তি হন ৫ থেকে ৬শ রোগী। এছাড়াও আউটডোরে চিকিৎসা নেন শত শত রোগী। কিন’ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে রোগীদের আক্ষেপের শেষ নেই।