চমেক হাসপাতাল চিকিৎসক-নার্সদের জন্য আধুনিক ডরমেটরি হচ্ছে

সিফায়াত উলস্নাহ

আধুনিক ডরমেটরি পেতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক চিকিৎসক ও নার্সরা। ইতোমধ্যে জায়গা নির্ধারণ শেষে গণপূর্ত বিভাগে ডরমেটরি নির্মাণের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপড়্গ।
চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারম্নল ইসলাম সুপ্রভাতকে বলেন, আলাদা দুটি ডরমেটরিতে ১৫০ জন চিকিৎসক এবং ৩০০ জন নার্সের আবাসন সুবিধা মিলবে।
জানা গেছে, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশ জন। এছাড়াও কলেজে আছেন আড়াইশর কাছাকাছি। বিপরীতে আবাসন সুবিধা আছে ৫০ জন চিকিৎসকের। অন্যদিকে, হাসপাতালে নার্স রয়েছেন এক হাজারের বেশি। ৫০ জনের মতো নার্স তৃতীয় শ্রেণির স্টাফ কোয়াটার ও সরকারি আবাসিক পুলে থাকেন। বাকিদের কোনো আবাসন সুবিধা নেই। তাদেরকে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়।
হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের একজন আবাসিক চিকিৎসক সুপ্রভাতকে জানান, ‘রোগীর বাইপাস সার্জারির জন্য অনেকসময় চিকিৎসকদের হাসপাতালে অবস’ান করতে হয়। অথচ এখানে চিকিৎসকদের জন্য কোনো আবাসন সুবিধা নেই। স্বল্প কিছু রম্নম থাকলেও সেগুলো হাসপাাতাল এলাকা থেকে অনেক দূরে। ফলে অনেক সময় বেকায়দায় পড়তে হয়।
৩২ নম্বর নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রের একজন নার্স জানান, হাসপাতালের নার্সদের আবাসন সংকট রয়েছে। অনেকে আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ডরমেটরি নির্মাণের ফলে আবাসন সংকট কিছু কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, চিকিৎসক ডরমেটরি নির্মাণের জন্য হাসপাতাল এলাকায় মিজান ইন্টার্নী হোস্টেলের পাশের খালি জায়গা ও লিচু বাগানের কিছু অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নার্সিং কলেজের পাশে পুরাতন নার্সিং হোস্টেল ভবন ভেঙ্গে নার্স ডরমেটরি নির্মাণ করা হবে।
চিকিৎসক ডরমেটরির প্রতিটি রম্নমে একজন চিকিৎসক থাকবেন। আয়তন হবে দুইশ বর্গ ফুট। ভবনে অভ্যর্থনা ও লিভিং স্পেস, কমনরম্নম, ডাইনিং, কেন্টিন, লাইব্রেরি, জেনারেট ও পার্কিংসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে। ভবনের কমচারীদের জন্য থাকবে ছয়টি ফ্ল্যাট।
নার্স ডরমেটরির প্রতি রম্নমের আয়তন হবে সাড়ে তিনশ বর্গ ফুট। দুজন নার্স প্রতি রম্নমে থাকবেন। এছাড়া অভ্যর্থনা ও লিভিং স্পেস, কমনরম্নম, ডাইনিং, কেন্টিন, লাইব্রেরি, জেনারেট ও পার্কিং সুবিধা থাকবে। ডরমেটরির স্টাফদের জন্য ছয়টি ফ্ল্যাট থাকবে।
উপ-পরিচালক ডা. আখতারম্নল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকদের জন্য স্বল্প আবাসন সুবিধা রয়েছে। তবে সেগুলো হাসপাতাল এলাকা থেকে অনেক দূরে। নার্সদের আবাসন সুবিধা একদম নেই। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য জরম্নরি ভিত্তিতে আলাদা দুটি ডরমেটরি নির্মাণের সিদ্ধানত্ম নেওয়া হয়েছে। এতে করে হাসপাতালের সেবার গতি বাড়বে।
তিনি বলেন, আবাসন সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ডরমেটরির জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে গণপূর্ত বিভাগে। আশাকরি দ্রম্নত নির্মাণ কাজ শুরম্ন হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন কোটি মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স’ল এই চমেক হাসপাতাল। এই হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ১ হাজার ৩১৩টি। বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। প্রতিদিন সাতশ থেকে নয়শ রোগী জরম্নরি সেবা নিতে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নেন দুই থেকে আড়াই হাজার জন।