চমেক হাসপাতাল আটকে গেল চীনের ১০০ কোটি টাকার বার্ন ইউনিট প্রকল্প

সালাহ উদ্দিন সায়েম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চীন সরকারের ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জায়গা নিয়ে জটিলতার কারণে আটকে গেছে। চীন সরকার স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের সাথে চুক্তি করে এ প্রকল্পের যে নকশা করেছিল, সে অনুযায়ী জায়গা পাচ্ছে না তারা। প্রকল্পের সাড়ে তিনশ বর্গমিটার জায়গার সংকট হয়েছে। আর এ জায়গার সংকট হয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস’ার (জাইকা) ‘ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং ব্যবস’া আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের কারণে।
জায়গার সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালে পরিদর্শনে আসে চীন দূতাবাসের সেক্রেটারির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট প্রকল্পের নকশা নিয়ে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চীনা প্রতিনিধি দল তাদের নকশায় ৫ তলা ভবনবিশিষ্ট দেড়শ’ শয্যার বার্ন ইউনিট গড়ে তুলতে হাসপাতালে দেড় হাজার বর্গমিটারের জায়গা চিহ্নিত করে। প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য আরো দেড় হাজার বর্গমিটার জায়গাও চিহ্নিত করে তারা। হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের পাশেই জায়গাটির অবস’ান। কিন’ এ জায়গার পাশাপাশি রয়েছে জাইকার এক হাজার দুইশত বর্গমিটারের ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রকল্পও। চীনের প্রকল্পের ৩৫০ বর্গমিটার জায়গা ঢুকে পড়েছে জাইকার এ প্রকল্পে।
কিন’ চীনের প্রকল্পটি এখনো প্রস্তাবনা আকারে রয়েছে। তারা কেবল মন্ত্রণালয়ের সাথে কাগজ-পত্রে চুক্তি করেছে। কিন’ জাইকার প্রকল্পটির ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে অনুমোদন পায়। সম্প্রতি এর নকশাও অনুমোদন হয়ে গেছে। ফলে জাইকার প্রকল্প থেকে ৩৫০ বর্গ মিটার জায়গা চীনের প্রকল্পে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব না।
গতকাল চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মৃণাল কান্তি দাশ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘তারা (চীনা প্রতিনিধি দল) প্রকল্পটির যে নকশা করেছে অবিকল সেভাবেই স’াপনা গড়ে তুলতে চাচ্ছে। কিন’ প্রকল্পটির সাড়ে তিনশত বর্গমিটার জায়গা সংকট হয়েছে। এ জায়গাটা জাইকার ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রকল্পে ঢুকে গেছে। চীনা প্রতিনিধি দল এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিষয়টি অন্যভাবে নিয়েছে। তারা তাদের নকশার বাইরে প্রকল্প গড়ে তোলা নিয়ে সরাসরি অনীহা দেখিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চীনা প্রতিনিধি দলকে তাদের প্রস্তাবিত মোট ৩ হাজার বর্গমিটারের জায়গায় পাঁচ তলার পরিবর্তে ৮ তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। কিন’ এতে তারা রাজি হননি। তারা প্রকল্পটির পুনরায় নকশা করার কথা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে চীন সরকারের সম্মতি নিতে হবে বলে জানান।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প থেকে অল্প কিছু জায়গা হাসপাতালের অন্য আরেকটি প্রকল্পে চলে গেছে। চীনা প্রতিনিধি দলকে আমরা পাঁচতলার জায়গায় আটতলা বহুতল ভবন গড়ে তুলতে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন’ তারা এতে মত দেননি। তারা প্রকল্পটির পুনরায় নকশার কথা বলে বিষয়টি নিয়ে চীন সরকারের সাথে কথা বলবে বলে জানান। চীন সরকার কী সিদ্ধান্ত দেয় তার ওপর প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বলে জানান তারা।’
২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চীনের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চমেক হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন। এ হাসপাতালে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট গড়ে তুলতে তারা হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের পার্শ্ববর্তী জায়গাটি চিহ্নিত করে যান। এরপর তারা মন্ত্রণালয়ের সাথে এ নিয়ে চুক্তি করেন। কিন’ এরপর দুই বছর ধরে প্রকল্পটি নিয়ে তাদের আর কোনো নড়াচড়া ছিল না। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা চমেক হাসপাতালে দ্বিতীয় দফায় পরির্দশনে আসে। কিন’ জাইকার ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ থেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির নকশাও অনুমোদন হয়ে গেছে। চলতে মাসে ওই প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।