চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ফেরত আট রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বজনদের সাথে চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে চিকিৎসা নেয়া রোহিঙ্গারা। গতকাল তাদের ফেরত পাঠানো হয় -সুপ্রভাত
স্বজনদের সাথে চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে চিকিৎসা নেয়া রোহিঙ্গারা। গতকাল তাদের ফেরত পাঠানো হয় -সুপ্রভাত

শরীরের বিভিন্ন অংশে এখনো ব্যথা রয়ে গেছে। কারো কারো শরীরে এখনো ব্যান্ডেজ বাঁধা। সুস্থ হয়েছেন বলে ডাক্তাররা ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছেন। তবে সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাদের চেহেরায় বিষণ্নতার ছাপ। কথা বলে জানা গেছে, এরা কেউ যেতে ইচ্ছুক না ক্যাম্পে। তবুও নির্দেশনা মেনে তাদের যেতে হচ্ছে। ক্যাম্পে গিয়ে কি খাবেন ? কি করবেন ? এসব প্রশ্নের উত্তর তাদের জানা নেই। দৃশ্যটি গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে। সেসময় চিকিৎসা শেষে কক্সবাজারের কুতুবপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয় আট রোহিঙ্গাকে।
এদের মধ্যে একজন মো. সেলিম (৬৫)। দুই ছেলের মধ্যে একজন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে মারা গেছেন। আরেকজন পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। স্ত্রী মারা গেছেন মাস কয়েক আগে। বর্তমানে একমাত্র সন্তান তার সব। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পাড়ার লোকেরা ভারে করে নিয়ে আসেন নাফ নদীর তীরে। এরপর ১২ দিন আগে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সুপ্রভাতকে তিনি বলেন, ‘মেডিক্যালে প্রতিদিন চারবার করে ওষুধ দিত। খাবার, দেখাশোনাও ঠিকমতো করতো ডাক্তার-নার্সরা। মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছি। কিন্তু ক্যাম্পে কোথায় ওষুধ পাব ? কে সেবা করবে কিছুই জানি না।’
রোহিঙ্গা নারী রাশেদা বেগম হাতে গুলিবিদ্ধ ছেলে আয়াত উল্লাহ (১৭)কে নিয়ে চিকিৎসার জন্য পাঁচদিন আগে হাসপাতালে এসেছিলেন। এ কয়দিন চিকিৎসা নেয়ার ফলে ছেলে পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু খাদ্য সংকটসহ নানা সমস্যা দেখে তার ফেরার ইচ্ছা নেই ক্যাম্পে। রাশেদা বেগম বলেন, ‘সীমান্ত পার হয়ে ক্যাম্পে ছিলাম কয়েকদিন। সেখানে খাবারের সংকট। কাদায় স্যাত স্যাতে ঘরে ঘুমানোর অবস্থা নেই। কাদা মাটির উপর ঘুমাতে হয় আমাদের।’ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ‘ফিরতে না চাইলেও ফিরতে হবে আমাদের।’
এদিকে গতকাল ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা হলেন- এরশাদ উল্লাহ (২০) পিতা মো. শফি, আমজাদ (২৬) পিতা নুর মোহাম্মদ, হাছন (২৪), পিতা- আবদুল হাকিম, ওসমান গনি ( ২০), পিতা- সুলতান আহমদ, লিয়াকত আলী (৬০), পিতা- মৃত ইমাম শরীফ, মো. সেলিম (৬০), পিতা- মো. হানিফ, আয়াত উল্লাহ (১৭), পিতা- ওসমান, নাজিম উল্লাহ (১৯), পিতা, মো. শফি। এরা সবাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। সহিংসতা শুরু পর হাতে-পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা ভর্তি হন হাসপাতালে।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, ‘ডাক্তাররা ছাড়পত্র দেওয়ার পর সুস্থ হওয়া আট রোহিঙ্গা ও তাদের সঙ্গে আসা স্বজনসহ মোট ১২ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বুধবার বিকেলে বাসযোগে রেঞ্জের একটি টিম তাদের নিয়ে কুতুবপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।’
এদিকে গত ২৪ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে পুলিশ চেক পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর নতুন করে দমন অভিযান শুরু করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তারপর থেকে গতকাল পর্যন্ত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মোট ৯৬ জন রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এরমধ্যে মারা গেছেন দুইজন। বাকিরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।