চমেক হাসপাতালে ‘অজ্ঞাত রোগী সেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক

অজ্ঞাত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের প্রথম ‘অজ্ঞাত রোগী সেল’ চালু করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল সোমবার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে এটা উদ্বোধন করা হয়। অজ্ঞাত রোগীদের নিয়ে এক যুগ ধরে কাজ করা সাইফুল ইসলাম নেছারের উদ্যোগে এ সেবা চালু হয়। এতে কয়েকটি সংগঠন ‘অজ্ঞাত রোগীদের বন্ধু’ হিসেবে খ্যাত নেছারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
গতকাল হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে একপাশে রাখা একটি বাক্সে ওষুধ সাজানো রয়েছে। অস্ত্রোপচারের জন্য সার্জিক্যাল আইটেমও রাখা হয়েছে। রয়েছে নতুন কিছু জামা-কাপড় ও বিশুদ্ধ পানির বোতল। বাক্সের ওপরে লেখা রয়েছে ‘শুধুমাত্র অজ্ঞাত রোগীদের জন্য’।
সুপ্রভাতকে নেছার বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে অনেক অজ্ঞাত রোগী আসেন। কিন’ কেউ তাদের দায়িত্ব নেন না। ওয়ার্ডে ভর্তির পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আর কেউ তাদের দেখেন না। অনেকেই আমাকে ফোন করে জানান, ওয়ার্ডে অজ্ঞাত রোগী এসেছে। এরপর গিয়ে খোঁজখবর নিই। প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে দিই। তবে অনেক সময় কর্মস’লে থাকার কারণে আসা সম্ভব হয় না।
নেছার বলেন, আমি না থাকলেও অজ্ঞাত রোগীরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পান, সে চিন্তা মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা সেল গঠনের চেষ্টা করে আসছি। অবশেষে সে চেষ্টা সফল হলো। এখন থেকে যে কোনো অজ্ঞাত রোগী এ সেল থেকে ওষুধসহ যাবতীয় সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। এছাড়া ফ্রিতে মিলবে সিটি স্ক্যান সেবা ও সার্জিক্যাল আইটেম।
নেছার বলেন, চমেক হাসপাতালে ২০১৬ সালে অজ্ঞাত রোগী ভর্তি হয়েছিল ৯৩ জন। তারমধ্যে ২৬ জন বাড়ি ফিরেছেন। তবে মারা গেছেন ১৭ জন অজ্ঞাত রোগী। ২০১৭ সালে ভর্তি হওয়া ৫৭ জন অজ্ঞাত রোগী মধ্যে নয়জন মারা গেছেন, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ১৬ জনকে। চলতি বছর ভর্তি হওয়া ৪২ জন অজ্ঞাত রোগীর মধ্যে মারা গেছেন ছয়জন। বাড়ি ফিরেছেন ১৩ জন রোগী।
গতকাল সেলের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়-য়া। এ সময় উপসি’ত ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর নোমান বিন খালিদ চৌধুরী, জুলফার বাংলাদেশ চট্টগ্রামের ব্যবস’াপক ফারুক সরকার, রিগালোর মহাব্যবস’াপক সাইদুল করিম, রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন প্রেসিডেন্ট কফিল উদ্দিন মাহমুদ, রোটারি ক্লাব অব মহানগরীর প্রেসিডেন্ট রেহেনুমা, পদ্মা ওয়েল ট্যাংকার অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি ইয়াকুব চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাসিন্দা মরহুম শামসুল হকের ছেলে প্রকৌশলী নেসার ২০০৭ সাল থেকে হাসপাতালের অজ্ঞাত রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন। পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ২০১২ সালে ফেনী পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা পাস করে বর্তমানে একটি বেসরকারি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।