চবি শিড়্গক সমিতির অগ্রিম ভোটগ্রহণ

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিড়্গক সমিতির নির্বাচনে অগ্রিম ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিড়্গক সমিতির কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যনত্ম এ ভোটগ্রহণ চলে।
এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এম. আবদুল গফুর বলেন, নির্বাচনে মোট ৮৭৪ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে ৮০ জন শিড়্গক আজ অগ্রিম ভোট প্রদান করেছেন। আগামী ২৮ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যনত্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে চূড়ানত্ম ভোটগ্রহণ হবে।
এদিকে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এবাবের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না বিএনপি-জামায়াতপনি’ শিড়্গক সমর্থিত সাদা দল। তবে নির্বাচনে সরকার সমর্থিত আওয়ামী-বামপনি’ শিড়্গকদের হলুদ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে থাকছে সাদা দল থেকে বেরিয়ে আসা বিএনপিপনি’ শিড়্গকদের একাংশের সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী শিড়্গক
ফোরাম’। গত বছর বিএনপিপনি’ শিড়্গকদের একাংশ এ ফোরাম গঠন করেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিড়্গকদের জন্য গুরম্নত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপনি’ সাদা দল নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় না থাকায় মাঠ চষে বেড়িয়েছেন হলুদ দলের নেতা ও তাদের অনুসারী অন্য শিড়্গকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবক’টি বিভাগ ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন তারা। কিন’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ‘জাতীয়তাবাদী শিড়্গক ফোরাম’ ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয়।
এবারের নির্বাচনে শিড়্গকরা বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ প্রগতিশীল শিড়্গক সমাজ (হলুদ দল) এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত শিড়্গক সমাজ (জাতীয়তাবাদী শিড়্গক ফোরামের) দুই প্যানেলে ১১টি পদের বিপরীতে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন দুইজন।
হলুদ দল মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- সভাপতি পদে আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে জামাল নজরম্নল ইসলাম গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী, সহসভাপতি পদে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সহিদ উলস্নাহ, যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং কোষাধ্যড়্গ পদে অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী আরশাদ চৌধুরী। এ ছাড়া ছয়টি সদস্য পদে অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রনজিত কুমার চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক বকুল চন্দ্র চাকমা, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইকবাল আহমেদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা সুকন্যা বাশার এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজহারম্নল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয়তাবাদী শিড়্গক ফোরাম মনোনীত প্রাথীরা হলেন- সভাপতি পদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পদে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সহসভাপতি পদে সমুদ্রবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শাহাদত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক পদে সমুদ্রবিদ্যা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী এবং কোষাধ্যড়্গ পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। সদস্য পদে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মেজবাউল আলম, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নাল আবেদীন সিদ্দিকী, সমুদ্রবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম এবং সদস্য পদে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোক্তার আহমেদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাহ আলম সাদা দলের ও মোক্তার হলুদ দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
নির্বচনে অংশগ্রহণ না করা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিসি’তি বিবেচনা করে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি না। তবে নির্বাচন বয়কট নয়, দলের যে কেউ চাইলে ভোট দিতে পারবে।’
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপিপনি’দের একাংশের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিড়্গক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম নছরম্নল কদির বলেন, ‘আমরা গত বছর সাদা দল থেকে বেরিয়ে আলাদা প্যানেলে নির্বাচন করেছি। এবারও স্বকীয়তা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। বর্তমানে আমাদের আলাদা পস্ন্যাটফর্ম থাকায় সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। আশা করছি আমরা নির্বাচনে ভালো করবো।’
হলুদ দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘গত বছরও আমরা পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়লাভ করেছি। এবারও জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।’
উলেস্নখ্য, গত ছয় বছর শিড়্গক সমিতির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে আসছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বামপনি’ প্রগতিশীল শিড়্গক সমাজের সংগঠন হলুদ দল।