মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি

চবি শিক্ষক আনোয়ারের বিরম্নদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Diyaz-Murder-Arrest-02

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিমের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উলেস্নখ করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক সহকারী প্রক্টর ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে আদালতে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান তানভীর বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আনোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে ‘রিলিজিয়াস পলিটিক্স অ্যান্ড কমিউনাল হারমনি ইন বাংলাদেশ : এ রিসেন্ট ইমপালস’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রবন্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ আনা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে আদালতে দায়ের করা মামলায় দ-বিধির ১২৩ (ক), ১২৪ (ক), ১৭৭, ৫০০, ৫০১, ৫০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ফৌজধারী কার্যবিধির ২০০ ধারায় বিষয়টি পরীড়্গা করে দেখতে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদনেত্মর আদেশ দেয়। এছাড়াও আদালত ফৌজধারী কার্যবিধির ১৯৬ ধারার বিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তদনত্ম কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
শুনানিতে আদালত বলেন, আসামির বিরম্নদ্ধে জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম আজহারম্নল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর একটি গবেষণা প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, মুক্তিযুদ্ধকে দাঙ্গা, আওয়ামী লীগকে সামপ্রদায়িক দল ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে ধর্মের লেবাসধারী উলেস্নখ করায় মামলাটি দায়ের করা হয়।’
মামলার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরেক আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সায়মুল চৌধুরী বলেন, চবি শিড়্গক আনোয়ার হোসেনের বিরম্নদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চকবাজার থানাকে তদনেত্মর দায়িত্ব দেন।
উলেস্নখ্য, চবি শিড়্গক আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান হত্যা মামলার ২ নম্বর এজহারভুক্ত আসামি। বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে অনত্মর্বর্তীকালীন জামিনে আছেন তিনি।
২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিজ বাসা থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফানের ঝুলনত্ম লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।