চবি শিক্ষার্থীদের জন্য ট্রেনে বাড়তি বগি দিন, রেল লাইন সংস্কার করুন

সম্পাদকীয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রবিউল হোসেনের ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানো এবং তাঁর জীবনের স্বপ্নভঙ্গের ট্রাজেডি শাটল ট্রেনে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে আবারো শংকার মুখে নিক্ষেপ করলো। শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঝুঁকিহীন ও নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সমাবেশ করেছে। তাঁরা এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবির মধ্যে রয়েছে শাটলের বগি, রেল লাইন সংস্কার ও ডাবল লাইন চালু, বহিরাগতদের শাটলে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ-রেলস্টেশনগুলির আধুনিকায়ন, ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত রবিউলের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও তাঁর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের এসব দাবি খুবই যৌক্তিক।
এসব দাবি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্পর্কিত। বগি বৃদ্ধি, লাইন সংস্কারের দাবি ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছে। নানা সময়ে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টনক নড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়ো অংকের বাজেট প্রতিবছর পাশ করা হয়। কিন’ এ সাধারণ দাবিগুলো কেন মেটানো হয় না বুঝা মুশকিল। রেল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম-নাজিরহাট শাখা লাইন সংস্কার করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত লাইনটি কেন এর আওতায় আসেনি, নিরাপদ ও সহজ চলাচলে এই সামান্য পথ ডাবল লাইনে রূপান্তরিত করতে অসুবিধা কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এই বিষয়গুলি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত বিহিত ব্যবস’া নেওয়া।
শত শত ছাত্রছাত্রী চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশের এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যায়। ট্রেনে গাদাগাদি ও ঠাসাঠাসিতে অনেকে অসুস’ হয়ে পড়ে। বিপজ্জনকভাবে ট্রেনের ওপরে, নিচে, ইঞ্জিনে শিক্ষার্থীরা জায়গা করে নেয়। এসব ছবি নিত্যই পত্রপত্রিকায় আসে। শিক্ষার্থীদের এই ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে কি পড়ে না?
চট্টগ্রাম মহানগর ও সন্নিহিত এলাকা ছাড়াও রাউজান, ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, হাটহাজারী এসব উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে। তাদের জন্য হ্রাসকৃত হারে বাস ভাড়ার সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়।
রেল-সড়ক সকল রুটেই নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনকে মূল্যবান ভাবতে হবে। কেননা এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। ছাত্রছাত্রীদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে তাদের শিক্ষাজীবন ও শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর ও সুচারু হবে। তাঁরা পড়াশুনায় আরো অধিক মনোনিবেশ করতে পারবেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের আন্দোলন সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব কী? আমরা আশা করি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব সম্যক উপলব্ধি করে শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।