ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগ

চবি শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবিতে ছাত্রলীগের স্মারকলিপি

চবি সংবাদদাতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকারের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদাত আল সাজিবের বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি
এনামুল হক আরাফাত স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি উপাচার্য বরাবর প্রেরণ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “সারা পৃথিবীর মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সুশাসনকে রোলমডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, মানবিক নেত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছে ঠিক সে মুহূর্তে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালনকারী কিছু শিক্ষক সরকারকে বিব্রত করতে কথিত গবেষণার নামে ভুয়া তথ্য উপস’াপন করে সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তাদের একজন সাদাত আল সাজিব বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য। তিনি নিজেকে আওয়ামীপনি’ শিক্ষক হিসেবেও বর্তমানে দাবি করেন। কিন’ বাস্তবে তিনি জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট। যা তার সমপ্রতি লিখা একটি আর্টিকেল বলে দিবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় ‘জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স’ নামে একটি জার্নাল। ২০১৭ সালের নভেম্বর সংখ্যায় ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ: এ ক্রিটিক্যাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং অব কন্সটিটিউশন্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডস’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ এই জার্নালে প্রকাশিত হয়। যার প্রথম লেখক চবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাদাত আল সাজিব। এ জার্নালে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ও পত্রিকাটি সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর সরকার ‘অবিচার’ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। আমার দেশ পত্রিকা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের উপর প্রভাব বিস্তার করা হয় বলেও দাবি করেছেন তার প্রবন্ধে। ওই জার্নালের আর্টিকেলের ১০৬ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমান নামটি উল্লেখ করলেও বঙ্গবন্ধু কিংবা জাতির পিতা সম্বোধন করতে তিনি লজ্জা পেয়েছেন।”
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদাত আল সাজিব বলেন, ‘একটা লেখা প্রকাশের জন্য এডিটোরিয়াল বোর্ড থাকে। কোনো ভুলভ্রান্তি হলে তা শুধরানো কিংবা ধরিয়ে দেবার দায়িত্ব তাদের। ওই লেখা প্রকাশের সময় এডিটোরিয়াল বোর্ডের প্রধান ছিলেন সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ফরিদ আহামেদ স্যার। ভুলভ্রান্তির কারণে তারা যদি প্রবন্ধটি গ্রহণ না করতো তাহলে তা জার্নালে প্রকাশ হতো না। যেহেতু তারা আমাকে কিছু জানায়নি তাই আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।’
স্মারকলিপির বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল (আজ) আমরা বসে একটা কমিটি গঠন করবো। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।