চবিতে হরেক রকম শিটের ছড়াছড়ি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ক্যাম্পাসে প্রশাসনের নাকের ডগায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের শতভাগ কমনের নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির মৌসুমি ব্যাবসায়ী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও দোকানগুলোতে পরীক্ষায় কমন পড়ার নিশ্চয়তা দিয়ে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে এসব দুই-চার পাতার ফটোকপি ওয়ালা শিট। অথচ দাম হাঁকাচ্ছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রায় সকল ইউনিটের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা শিট। কয়েক পাতার এসব শিটে রয়েছে শত শত ভুল। কোনো কোনো পরীক্ষার্থীকে এসব কেনার জন্য জোর জবরদস্তিরও অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, কাটা পাহাড়ের রাস্তার পাশে, সোহরাওয়ার্দী মোড়, শহীদ মিনার, কলা অনুষদের ঝুপড়ি, লেডিস হলের ঝুপড়ি এমনকি বিভিন্ন অনুষদের সামনেই প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে এসব শিট। শতভাগ কমন পড়ার নিশ্চয়তা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এসব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ।
এ ব্যাপারে নাটোর থেকে আসা রফিক নামের এক ভর্তিচ্ছু ছাত্র জানান, ‘সারা বছর বই পড়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে এসেছি। পরীক্ষা চলাকালীন এসব শিটের উপর নির্ভর করতে চাই না তবু দোকানিদের জোর-জবরদস্তিতে একটি শিট কিনলাম।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিট বিক্রেতা জানান, ‘ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একটু উপরি ইনকামের জন্যই মূলত একাজ করা। কয়েকটি বই থেকে বেছে বেছে আমরা দু’তিন জন মিলে এসব শিট তৈরি করেছি। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কাছে সহজেই এসব শিট ভালো দামে বিক্রি করা যায়। লাভও বেশ ভাল হয়।’
তবে এসব ভুয়া শিট বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে নেয়া হচ্ছে না তেমন কোন পদক্ষেপ, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ ধরনের শিট বিক্রির ব্যাপারে কোন ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। অথচ প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার আগে এবং ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ক্যাম্পাসে অবাধে বিক্রি হয় এসব শিট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন চৌধুরী সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা এসব অসাধু ব্যাবসায়ীদের ব্যাপারে তৎপর। ইতোমধ্যে জিরো পয়েন্ট ও কাটা পাহাড়ের রাস্তায় বসা বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করে এ ধরনের শিট জব্দ করা হয়ছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন