চবিতে রাতভর সংঘর্ষ

ছাত্রলীগের দু’গ্রম্নপের ১১ জন আহত ক্যাম্পাস থমথমে

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রম্নপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যনত্ম সোহরাওয়ার্দী হল থেকে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে পর্যনত্ম দফায় দফায় এ সংঘর্র্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রম্নপের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে দু’গ্রম্নপের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। রাত ৮টায় উভয় গ্রম্নপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস’ান করতে দেখা গেছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে এমন আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবাদমান দুইটি গ্রম্নপ হচ্ছে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন, ভিএক্স, কনকর্ডসহ সিটি মেয়রের আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী সবগুলো গ্রম্নপ এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ‘চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার’ (সিএফসি)।
বৃহস্পতিবার রাতভর সংঘর্ষে আহতরা হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২য় বর্ষের শিড়্গার্থী রনি, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ৩য় বর্ষের আল-আমিন, সংস্কৃত বিভাগের ৩য় বর্ষের তুষার রায়, একই বিভাগের অমিত, ইসলামের স্ট্যাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের শুভ, ইংরেজি বিভাগের ৩য় বর্ষের আরিফুল ইসলাম ও ফয়সাল, পদাার্থবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের শফিকুল ইসলাম শাওন, আনত্মর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৩য় বর্ষের সাব্বির, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২য় বর্ষের নিশান, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষের আজিম রনি। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এদের মধ্যে আল-আমিন ও আরিফের আঘাত গুরম্নতর হওয়ায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যড়্গদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন’াগারের সামনে সিএক্সটি নাইনের রনি নামের এক কর্মী তার বান্ধবীকে নিয়ে বসেছিল। এ সময় সিএফসি’র কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে মারধর করে। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে রাতে শাটল ট্রেন আসার পর সিক্সটি নাইন, ভিএক্স, কনকর্ডসহ মেয়র অনুসারী সবগুলো গ্রম্নপ শাহজালাল হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকে। অন্যদিকে শাহ আমানত হলের সামনে জড়ো হতে থাকে সিএফসি’র কর্মীরা। পরে উভয় গ্রম্নপের নেতাকর্মীরা ইট পাটকেল নিড়্গেপে জড়িয়ে পড়ে। রাত বাড়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স’ানে বেশ কয়েক বার সংঘর্ষে জড়ায় উভয় গ্রম্নপ। এতে উভয় গ্রম্নপের ১১ জন আহত হয়। পরে উভয় পড়্গ একে অপরকে উদ্দেশ করে উস্কানিমূলক সেস্নাগান দিতে থাকে। এ সংঘর্ষ চলে ভোর সাড়ে চারটা পর্যনত্ম। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস’ান নিয়ে লাঠিচার্জ করে উভয় গ্রম্নপকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে শুক্রবার বিকেল থেকে উভয় গ্রম্নপে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিসি’তি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স’ানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। রাত ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যনত্ম মেয়র নাছিরের অনুসারীরা শাহ জালাল হল ও নওফেলের অনুসারীরা শাহ আমানতে হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস’ান নিয়েছিলো।
এ ব্যাপারে নওফেলের অনুসারী ও সিএফসি গ্রম্নপের নেতা জামান নুর বলেন, ‘রাতের আধারে শিবির ঁ ২য় পৃষ্ঠার ১ম কলাম
স্টাইলে আমদের ঘুমনত্ম নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় তারা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে এদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি। অনথ্যায় আমরা নিজেরাই তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া গ্রহণ করবো।’
নাছির গ্রম্নপের অনুসারী ও বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমার বিপুল বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শিবিরের অনুপ্রবেশকারীরা ক্যাম্পাসকে অস’ীতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা বারবার অনত্মর্কোন্দল সৃষ্টি করছে। আমরা এসব কুচক্রি মহলকে প্রতিহত করবো।’
এ ব্যাপারে চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আক্তারম্নজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের উভয় পড়্গের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পুলিশ অবস’ান নিয়ে তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, পরিসি’তি স্বাভাবিক। তবে যেকোনো পরিসি’তি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনী সতর্ক অবস’ানে রয়েছে।