চবিতে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে আহত ৭

দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার

চবি সংবাদদাতা
Untitled-1

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বহিষ্কৃত হয়েও ছাত্রলীগ নেতা শাকিল পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের এক পক্ষের সাথে সংঘর্ষে পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়। এ ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
আহতরা হলেন- হাটহাজারী থানা পুলিশের এস আই মহসিন আলী, কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইমাম হোসেন। এছাড়া দুই ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান ও নাজমুস সাদাত আহত হয়েছেন ।
এদিকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও সদস্য আব্দুল আল কায়ছার সাকিলকে স’ায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব শাহরিয়ার শাহীনকে কুপিয়ে আঙ্গুল কেটে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আল কায়ছার সাকিলকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত হয়েও বৃহস্পতিবার শাকিল ছাত্রলীগের দলবল নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন। কোন ধরনের কাগজপত্র ও ফরম পূরণ ছাড়া পরীক্ষা নিতে বিভাগের শিক্ষকরা অস্বীকৃতি জানান। এসময় শাকিল তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের নিয়ে পরীক্ষার হলে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কোন পরীক্ষার্থীকের হল রুমে প্রবেশ করতে দেয়নি শাকিলের সহযোগীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরীক্ষার হলের সামনে থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চলে যেতে বললে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। পুলিশ তাদের শান্ত কারর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের সাথে সংষর্ঘে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। সেখান থেকে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশ আটক করে। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেইট আটকে দেয় এবং স্টেশনে থাকা দুপুর দেড়টার ট্রেনের হুশ পাইপ কেটে দেয়। সেখানেও পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর টিপু সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি তারা যেন শাকিলকে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনায় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদরে বিরুদ্ধে ব্যবস’া গ্রহণ করার জন্যও বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বের করে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে ব্যবস’া নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে।’
এদিকে ৪০১ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা স’গিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।