চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বেড়েছে খাবার মূল্য বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বাইজিদ ইমন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানার খাবার দোকানে খাবার খেতে শিক্ষার্থীদের খরচ করতে হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কিন’ প্রায় শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় এত টাকা খরচ করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। তাই অল্প টাকায় খেতে তারা ছুটে আসেন চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায়। কিন’ হঠাৎ করে সেখানেও বাড়ানো হয়েছে খাবার মূল্য। ফলে খরচ কমানোর শেষ পথটিও যেন বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।
চাকসু ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন খাবার দোকানগুলো বেপরোয়া হারে বাড়িয়ে দিয়েছে খাবারের দাম। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরাও।
জানা যাায়, ২০১৬ সালেও চাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় ১৬ টাকা দিয়ে ভাত-মাংস পাওয়া যেত। এরপর সে খাবারের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ টাকা। আর ২০১৭ তে এসে মুরগি পোলাও ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা। মুরগি-খিচুড়ি করা হয়েছে ২০ টাকা থেকে ২৩ টাকা। সাধারণ পুরি থেকে ডাল পুরি করার কারণে দুই টাকার বদলে ৩ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও খাবার তালিকায় নতুনভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস, কফি, মিনারেল ওয়াটার। তবে এ সকল পানীয়ের মূল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যসব জায়গার তুলনায় সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।
হঠাৎ করে খাবারের দাম বাড়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হাকিম শাওন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হলেও প্রশাসনের উচিত ছিল খাবার মূল্যবৃদ্ধি না করা। তাছাড়া আগে থেকে কোনো রকম নোটিশও দেয়া হয়নি। নোটিশ ছাড়া দাম বাড়ানো কতটুকু যৌক্তিক? এভাবে মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে চাকসু পরিচালক শাহেদ বিন সাদেক সুপ্রভাতকে বলেন, ‘অনেক আগেই চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। তারপরেও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চালিয়ে নিয়েছিলাম। কিন’ গত মাসে ভর্তুকি বেশি আসাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতিক্রমে এ দাম বাড়ানো হয়েছে।’
খাবার মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে চাকসুর সহকারী পরিচালক অরূপ বড়-য়া সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমরা ক্যাফেটেরিয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। এছাড়াও বেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন এনেছি। প্রতি বছর বেতন-ভাতা বাবদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। ১৯ জন কর্মচারী ছাড়াও খণ্ডকালীন ছাত্র কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে হয়। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা খাবারের দাম কিছুটা বাড়িয়েছি।’