চট্টগ্রাম বন্দর রপ্তানিতে বাড়ছে খালি কনটেইনার

ভূঁইয়া নজরুল

চট্টগ্রাম বন্দর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৭৩২ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করার রেকর্ড করেছে গত শুক্রবার। এর আগের রেকর্ড ছিল ৯ হাজার ৮৮৭ একক কনটেইনার (গত বছরের ২১ জুলাই)। দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদিত হওয়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দিন দিন কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ বাড়লেও কমছে না খালি কনটেইনার রপ্তানির পরিমাণ। পণ্যবাহী রপ্তানি কনটেইনারের তুলনায় খালি কনটেইনারের পরিমাণ বেশি।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত মাসে ৭৩ হাজার ৭৬৩ টি একক কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এরমধ্যে পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৩৩ হাজার ৫৮৭ কনটেইনার এবং খালি ছিল ৪০ হাজার ৩০ কনটেইনার। শুধু গত মাসই নয়, এর আগে জুলাই মাসে ৮২ হাজার ৯৯০ কনটেইনার রপ্তানি হলেও পণ্যভর্তি ছিল ৩৬ হাজার ৫৪ কনটেইনার এবং খালি ছিল ৪৬ হাজার ৯৩৬ কনটেইনার। জুন মাসে ৬৪ হাজার ৭২৬ রপ্তানিবাহী কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ৩০ হাজার ৭৬টিতে এবং খালি ছিল ৩৪ হাজার ৬৫০টি। মে মাসে ৭১ হাজার ১১০ রপ্তানিবাহী কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ৩২ হাজার ৮৮৯টিতে এবং খালি ছিল ৩৮ হাজার ২২১টি। এপ্রিল মাসে ৭৪ হাজার ৭৩৭ কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ২৯ হাজার ৫৯৬টিতে এবং খালি ছিল ৪৫ হাজার ১৪১টি। মার্চে ৮০ হাজার ২৪৩ রপ্তানিবাহী কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ৩২ হাজার ৭৭৭টিতে এবং খালি ছিল ৪৭ হাজার ৪৬৬টি। ফেব্রুয়ারি মাসে ৭১ হাজার ১৮টি রপ্তানিবাহী কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ৩০ হাজার ৬২৭টিতে এবং খালি ছিল ৪০ হাজার ৩৯১টি। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ৮০ হাজার ৭৮টি রপ্তানিবাহী কনটেইনারের মধ্যে পণ্য ছিল ৩১ হাজার ৫৮টিতে এবং খালি ছিল ৪৯ হাজার ২০টি।
এভাবে খালি কনটেইনারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করতে বন্দরের যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, খালি কনটেইনার পরিবহন করতেও সমপরিমাণ কাজ করতে হয়। তাই এসব কনটেইনার পণ্যভর্তি হলেও দেশের অগ্রগতি আরো ভালো হতো। খালি কনটেইনারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হলে দেশের রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
রপ্তানি আইটেম বাড়ানো ছাড়া খালি কনটেইনারের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব নয় জানিয়ে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘দেশে সামগ্রিকভাবে আমদানি বেশি ও রপ্তানি কম হচ্ছে। আর এর প্রভাবেই খালি কনটেইনারের পরিমাণ বেশি। এই হার কমিয়ে আনতে ২০২১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
আমদানিকারকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই বন্দর দিয়ে কনটেইনার বেশি প্রবেশ করে জানিয়ে পিআইএল শিপিং কোম্পানির আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘একসময় দেশ থেকে লোহার গুঁড়ো ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হতো, তখন ২০ ফুট একক কনটেইনারের চাহিদা বেশি ছিল। কিন’ এখন শুধুমাত্র গার্মেন্টস পণ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য তেমন না থাকায় ৪০ ফুট কনটেইনার রপ্তানিতে বেশি ব্যবহৃত হয়। রপ্তানি আইটেম না বাড়ানো হলে এই অবস’া থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
খালি কনটেইনার বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, অনেকে বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন’ এখনো বন্দর যে পরিমাণ খালি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে, সেগুলো খালি না হয়ে পণ্যভর্তি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ নিতে পারে। এতে দেশ আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হবে তেমনিভাবে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবে।
অপর এক ব্যবসায়ী নেতা জানান, এসব খালি কনটেইনার বন্দরের মূল্যবান জায়গা দখল করে রাখছে এবং বছরের পর বছর ভাড়া গুণছে। বিশ্বের কোথাও খালি কনটেইনার বন্দরের ভেতরের জেটিতে রাখা হয় না। খালি কনটেইনার রাখার জন্য সব দেশে পৃথক ইয়ার্ড রয়েছে। খালি কনটেইনার কখনো বন্ডেড আইটেম হতে পারে না, কিন’ আমাদের দেশে তা বন্ডেড করে রাখা হয়েছে। এই ধারা পরিবর্তন করে খালি কনটেইনারের জন্য পৃথক ইয়ার্ড গড়ে তুলতে হবে।