উন্নয়ন রোডম্যাপ-চট্টগ্রাম বিভাগ শীর্ষক সেমিনারে মশিউর

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘দেশের আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দরের উপর নির্ভর করে। সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের সড়্গমতা বৃদ্ধি চায়। চট্টগ্রাম বন্দর ঠিক মতো কাজ না করলে আমদানি রপ্তানি-ব্যাহত হবে।’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-চট্টগ্রাম বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটি আয়োজিত ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর আলোকে এ সেমিনার গতকাল সোমবার সকালে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স রম্নমে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির চেয়ারম্যান ড. মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘বাইরের দেশের সাথে যোগাযোগ রাখতে না পারলে আমাদের পিছিয়ে পড়তে হবে। বন্দর না থাকলে শিল্প গড়ে উঠবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের সমস্যা দেখবেন। তিনি চান চট্টগ্রাম বন্দরের সড়্গমতা আরও বাড়াতে।’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপ কমিটির সদস্যসচিব টিপু মুন্শির সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী ও চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুুবুল আলম।
এর আগে সেমিনারে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও চেম্বার সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। যেখানে উঠে আসে ব্যাংকের ঋণ প্রদানে অনীহাসহ স’ানীয় সন্ত্রাসীদের বিরম্নদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও।
ব্যবসায়ীদের নিয়ে নয় ছয় খেলছে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো বলে মনত্মব্য করেন আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ও সংসদ সদস্য টিপু। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের গেটওয়ে। এ বন্দরের সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের ভিশন ২০৪১ অর্জন করতে হলে রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়নে উন্নীত করতে হবে। কিন’ চট্টগ্রাম বন্দর এর জন্য প্রস’ত নয়। চীন থেকে অনেক অর্ডার আসছে। সারা দেশের উন্নয়নের লড়্গ্যে চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হবে।’
কর্ণফুলী নদীর দু’পাশে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উলেস্নখ করে সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর নিচু হয়ে গেছে, কিন’ নদী উঁচু হয়ে গেছে। কর্ণফুলীতে ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং হলে এ সমস্যা কেটে যাবে।’
চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘মিরসরাই ও আনোয়ারায় ইকনোমিক জোনের কাজ দ্রম্নত শেষ করতে হবে। কর্ণফুলীর ওপারে চায়না ও কর্ণফুলী ইপিজেড হলে দেড় লাখ লোকের কর্মসংস’ান হবে। বে-টার্মিনাল ফাস্ট ট্রেকে করা হলে সেখানে ৫০ হাজার টনের জাহাজ ভিড়তে পারবে। আগামী ৫০ বছরের জন্য আমাদের আর নতুন বন্দরের চিনত্মা করতে হবে না।’
মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামে ৫টি ব্যাংকের হেডকোয়ার্টার স’াপন, বছরে একটি কেবিনেট মিটিং আয়োজন, বিএসটিআই’র সড়্গমতা ও জনবল বৃদ্ধি, দড়্গিণ ও দড়্গিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি, কলকাতা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিমান যোগাযোগ স’াপন, চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ৮ লেন, এক্সপ্রেস ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং বুলেট ট্রেন চালু করা, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু রেলসহ নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং চালু করার দাবি জানান।
সেমিনারে দেশে বন্দরবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বন্দর মন্ত্রীর দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি এসএম আবু তৈয়ব।
সেমিনারে বন্দর, বস্নু ইকনোমি, বিগ বি ইনিশিয়েটিভ ও ডেল্টা পস্ন্যানকে গুরম্নত্ব দিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক একেএম আক্তার হোসেন ও ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এমএ ছালাম, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ডা. মঈনুল ইসলাম, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি আবিদা মোসত্মফা, রিহ্যাব সভাপতি আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রহমান, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, নাজমুল করিম চৌধুরী শারম্নন ও মোহাম্মদ নাসির, দড়্গিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা লুবনা হারম্নন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, জিপিএইচ ইস্পাতের মিডিয়া অ্যাডভাইজর ওসমান গণি চৌধুরী এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতাহেরম্নল ইসলাম চৌধুরী।