চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ স্থগিত হচ্ছে কমিটি!

সালাহ উদ্দিন সায়েম

নেতৃত্বর বিতর্কের কারণে স্থগিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটি। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নেতাকে কমিটিতে স’ান দেওয়ার অভিযোগে বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় এ কমিটি স্থগিত হতে পারে বলে বলে সুপ্রভাতকে আভাস দিয়েছেন গতকাল চট্টগ্রাম সফরে আসা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শুভন।
তিনি গতকাল রাতে ফোনে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘এ কমিটি গঠনের পর থেকে চট্টগ্রাম কলেজে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে এ কমিটিতে শিবির ও ছাত্রদল নেতার স’ান পাওয়ার কথা শুনেছি। এছাড়া কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। এসব অভিযোগ যাচাই করতে কেন্দ্র থেকে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত টিম কয়েকদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে আসবে।’
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটি নিয়ে অসন্তোষ নিরসনে আমরা অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নেবো। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে, তাহলে এ কমিটি স’গিত করা হবে।’
চট্টগ্রাম কলেজের নবগঠিত কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে
ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শুভন গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নগর ভবনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন’ মেয়রের ব্যস্ততার কারণে ছাত্রলীগ নেতার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি।
১৭ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ফেসবুকে চট্টগ্রাম কলেজ শাখার ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। ওই রাতে কমিটি ঘোষণার পরই ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে কলেজের ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী এসব ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এ কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যায়িত করে গত এক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে আসছে।
ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বিস্ফোরণ ও গুলাগুলিতে অশান্ত হয়ে উঠে চট্টগ্রাম কলেজের পরিবেশ।
শনিবার রাতে সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ও অসি’রতার বিষয়টি তুলে ধরেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অসি’রতা সৃষ্টি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এ নিয়ে ব্যবস’া নিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেবেন বলে জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি নিয়ে অসি’রতা নিরসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে তদন্ত কমিটি পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, নগর ছাত্রলীগ এ কমিটি গঠনের বিষয়ে অভিভাবক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি। এখন কমিটি নিয়ে ক্যাম্পাসে যে অসি’রতা সৃষ্টি হয়েছে তার দায়ভার তো সরকার তথা আওয়ামী লীগের ওপরই বর্তায়। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে এ কমিটি ঘোষণার কী প্রয়োজন ছিল ? অথচ যেসব কলেজে কমিটি গঠনের প্রয়োজন রয়েছে সেখানে করা হয়নি।’

‘গভীর রাতে ফেসবুকে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে-এটা কেমন কালচার ?’- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে কীভাবে ছাত্রদল ও শিবির নেতা স’ান পায় ?’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শুভন গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে চট্টগ্রাম কলেজের কমিটি করতে। তারা সবার সাথে আলোচনা করে কমিটি করলে আজকে এ অবস’া হতো না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘কমিটি করার এখতিয়ার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। যাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করার কথা, আমরা তাদের সাথে করেছি।’
২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
করে মেয়রের অনুসারী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কমিটিতে
দুজন ছাত্রদল নেতা (সহসভাপতি খালেদ মাহমুদ চৌধুরী টুটুল ও পাঠচক্র সম্পাদক রিফাত হোসেন) এবং একজন শিবিরকর্মীকে (সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম দুর্জয়) স’ান দেওয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উস’াপন করা হয়।
২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয় ছাত্রলীগ। এরপর ক্যাম্পাসে সংগঠনটির তিনটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠে। নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে তিনটি বলয় গড়ে তুলেন।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের গঠিত ২৫ সদস্যের এ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ট ১৪টি পদ পায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। বাকি ৭টি পদে মেয়র নাছির গ্রুপ এবং ৪টি পদে মন্ত্রী বিএসসির অনুসারীরা স’ান পেয়েছেন। কিন’ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ সভাপতি মহিউদ্দিন গ্রুপ আর সাধারণ সম্পাদক পদ পান মন্ত্রী বিএসসির অনুসারী।