চট্টগ্রামে শক্তি সঞ্চয় করছে জঙ্গিরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে শেকড় গেড়ে শক্তি সঞ্চয় করছে নিষিদ্ধঘোষিত হিজবুত তাহরীর, জেএমবিসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনগুলো চট্টগ্রামে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। সারাদেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক থাকতে পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯টি সংস’াকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জঙ্গি হামলার শঙ্কা ছাড়াও একাধিক সুপারিশও রয়েছে ওই চিঠিতে।
সুপারিশগুলো হলো-আদালতে জামিনে মুক্ত জঙ্গিদের নিয়মিত হাজিরার ব্যবস’া, তাদের পরিবারের ওপর নজরদারি, সীমান্তবর্তী জেলায় বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো, জঙ্গি হামলার টার্গেট থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জেলখানায় আটক জঙ্গিদের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়া আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে বাইরে যেন তথ্য আদান-প্রদান না হয় সে ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকা ইত্যাদি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে সিএমপির বিশেষ শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছে পুুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতীয় একটি পত্রিকায় চট্টগ্রামে জঙ্গিদের বড় হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর গত ৭ অক্টোবর ওই চিঠি সিএমপি’র দপ্তরে এসে পৌঁছে। চিঠিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে চট্টগ্রামে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে। তারা চট্টগ্রামে শেকড় গেড়ে শক্তি সঞ্চয় করছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস’ নির্বাচনী সভা-সমাবেশ, সুশীল ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও বিদেশি নাগরিক। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের আগেই জঙ্গি গোষ্ঠিগুলো দেশ-বিদেশ থেকে নতুন সদস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স’াপনের পরিকল্পনার করছে।
সিএমপি সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অন্তত ৬০ জন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে তাদের উপর কড়া নজরদারি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার ফখরুদ্দিন জানান, বর্তমানে আরজিনা নামের এক নারীসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ২৮ জন সদস্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।
র্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান জানান, সম্প্রতি মিরসরাই উপজেলার সোনা পাহাড় এলাকার আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল চট্টগ্রাম আদালতে হামলা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গিরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সড়ক মহাসড়কের পাশে আস্তানা গেড়েছে। তবে র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের তৎপরতা রুখে দিতে প্রস’ত রয়েছে।