চট্টগ্রামে ভলিবলে প্রথম নারী রেফারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে ভলিবল খেলায় প্রথম ও একমাত্র নারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শক্তি রানী মন্ডল। ভলিবল প্রিমিয়ার লীগ ২০১৭, যুব গেমস ২০১৮, বাংলাদেশ মহিলা ভলিবল লীগ ২০১৮ সহ জাতীয় ও স’ানীয় পর্যায়ের প্রায় ৩০টি ভলিবল ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। চবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী ফুটবল ম্যাচেও রেফারি হিসেবে প্র্যাকটিস করছেন। চট্টগ্রামে ফুটবল খেলায় দ্বিতীয় নারী রেফারিও তিনি।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ থানার সুয়াইর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা সুনীল মন্ডল ও মা নিভা রানী মন্ডল। ওই অজপাড়া গাঁ থেকে ওঠে এসে খেলায় তার দক্ষতা ও সাহস দেখিয়ে এবার রেফারির খাতায় নাম লিখিয়েছেন শক্তি রানী।
২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলার ফার্স্ট ডিভিশন ভলিবল খেলায় রেফারিং করেন চবির এই শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ থেকে সদ্য এক বছরের ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন (বিপিএড) সমাপ্ত করেছেন তিনি। বিপিএড-এ তার স্পেশাল গেমস ছিলো ভলিবল খেলা।
শুধু যে রেফারিং করছেন, তা নয়। খেলোয়াড় হিসেবে তার অর্জনের ঝুলিও বেশ বড়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম বাংলাদেশ গেমসে চট্টগ্রাম জেলার হয়ে ভলিবল খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল লীগ ২০১৭, ৫ম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় গেমস ২০১৭, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গেমস ২০১৬ এর ভলিবলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলিবল টিমের হয়ে খেলে রানারআপ হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গেমস ২০১৪ এর ভলিবল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার দল।
খেলেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাবের হয়েও। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২০১৩ সালে যশোরে ও ২০১৬ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত হ্যান্ডবল লীগেও খেলেছেন শক্তি রানী।
নেত্রকোণা মহিলা ক্রীড়া সংস’ার হয়ে আন্তঃকলেজ খেলায় অ্যাথলেটিকসে বর্শা খেলে চ্যাম্পিয়ন ও চাকতিতে রানারআপ হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এই খেলাগুলোতে বেশ কয়েকটি পদক জিতেছেন তিনি। ২০১৭ সালে চবির আবাসিক হলের ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ক্যাডেট নির্বাচিত হন শক্তি রানী মন্ডল। ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্লস রোভার গার্ল ইন রোভারে প্রথম সিনিয়র ওভারমেট শক্তি রানী ২০১৮ সালের কাউন্সিলের সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি’র সদস্যও।
রেফারি জগতে চট্টগ্রামের প্রথম ও একমাত্র এই নারী রেফারির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস’ার ভলিবল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় ভলিবল ফেডারেশন সদস্য মোহাম্মদ শোয়াইব। তিনি জাতীয় ভলিবল টিমের নির্বাচক কমিটির সদস্যও। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, শক্তি রানী মন্ডল প্রথম বিভাগের ভলিবল লীগ, যুব গেমসসহ বেশ কয়েকটি লীগের ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছে। চট্টগ্রামে ভলিবল খেলায় প্রথম ও একমাত্র নারী রেফারি সে। রেফারির জগতে তার ভবিষ্যত খুবই ভালো ও উজ্জ্বল। অনেক সাহসীও সে।
পেশাদারী রেফারি জগতে না গেলেও খেলাধুলা ও রেফারিং করতে চান শক্তি রানী। তিনি বলেন, খেলাধুলার সাথে থাকার ইচ্ছে আছে। হয়তো রেফারিং বা কোচ করবো। তবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে জয়েন করার স্বপ্ন আমার দীর্ঘদিনের। ছোটবেলা থেকে নিজেকে এর জন্যই তৈরি করেছি আমি।