চট্টগ্রামে বিমানমন্ত্রী

সম্প্রসারণ করা হবে শাহ আমানত বিমানবন্দর

চর আজহারে নতুন বিমানবন্দর স্থাপনে ফিজিক্যাল রিপোর্ট আগামী মাসে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হলে অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরো সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাজাহান কামাল। এ বন্দরে প্রবাসীরা কোন ধরনের হয়রানির শিকার হলে ইমিগ্রেশন অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এছাড়াও তিনি জানান, পদ্মার পাড়ে চর আজাহারে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর’ নামে নতুন একটি বিমানবন্দর করার কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
মতবিমিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমান উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বিভাগে ভিজিট ভিসাধারী ও প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া নগরীর স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতে বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আধুনিকায়ন করা হবে জানিয়ে একেএম শাজাহান কামাল বলেন, ‘এ বন্দর আরো আন্তর্জাতিক মানের করার চেষ্টা করছি আমরা। বন্দরটি আরো সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি সংসদে কথা বলবো। ’
তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, ‘এ বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য কী কী করার দরকার আমাকে জানাবেন। বন্দরের চেয়ারম্যানের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সময় মাত্র নয় মাস।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন খুব কঠিন কাজ। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী ও বিদেশীরা হয়রানির শিকার হয়। প্রবাসীরা কোন ধরনের হয়রানির শিকার হলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারেও আমি ঢাকায় কথা বলবো।’
‘কক্সবাজার বিমানবন্দরেও সমস্যা আছে। আমি সেখানেও যাবো।’ যোগ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি জানান, ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামে আরো একটি নতুন বিমানবন্দর করা হবে। এ বন্দর নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মার পাড়ে চর আজহার এলাকায় বন্দর নির্মাণের জন্য দক্ষ বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে ফিজিক্যাল স্ট্যাডির কাজ করা হচ্ছে। এ টিমের আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুর যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে কাজ করা হবে।’
মন্ত্রীত্ব পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বলে জানিয়ে শাজাহান কামাল বলেন, ‘পরিবর্তনের দরকার ছিল বলে আমাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
স্টেশন রোডের মোটেল সৈকতে বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যূরাল স্থাপনের ব্যাপারেও আলোচনা করবেন বলে জানান নতুন এ মন্ত্রী।
এর আগে মন্ত্রী প্রয়াত সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যান। এসময় তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবরও জেয়ারত করেন।