চট্টগ্রামের তিন শীর্ষ জামায়াত নেতার রিমান্ড আবেদন নাকচ

জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করে এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরায় গোপন বৈঠক থেকে আটক হওয়া চট্টগ্রামের তিন শীর্ষ জামায়াত নেতাকে চকবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান ও সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম এবং দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেককে এ মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৬ সালের ১২ মে নগরীর প্যারেড ময়দানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি হওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর গায়েবানা জানাজাকে ঘিরে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল।
মহানগর হাকিম মো. সফিউদ্দিনের আদালতে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো. শাহাবুদ্দীন আহমেদ এ মামলায় তিন জামায়াত নেতাকে পুলিশি হেফাজতে ১০ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করতে একটি পিটিশন দাখিল করেন। পরে শুনানিতে এই পুলিশ কর্মকর্তা তিন জামায়াত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ ধরে জোরালোভাবে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। কিন্তু আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। সেই সাথে এক সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফিউদ্দিন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো. শাহাবুদ্দীন আহমেদ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমি শুনানিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে জোরালোভাবে তিন জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে তিন জামায়াত নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এছাড়া আদালত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।’
‘রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আমার দায়িত্ব যেটা ছিল, সেটা আমি পালন করেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আদালত যেটা ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গত মনে করেছেন, সেভাবে আদেশ দিয়েছেন’, বলেন এসি প্রসিকিউশন।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকা চকবাজার থানার জিআরও এসআই আনিসুর রহমান সুপ্রভাতকে বলেন, ‘তিন জামায়াত নেতার রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করতে এসি প্রসিকিউশন জোরালোভাবে আবেদন করেছেন। কিন্তু আবেদন মঞ্জুর করা না করা তো সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।’
এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী তিন জামায়াত নেতার জামিনের আবেদন চেয়ে একটি পিটিশন দাখিল করেন। আদালত সেই পিটিশন খারিজ করে দেন।
চারদিন পর তিন জামায়াত নেতার ফের জামিন আবেদন করা হবে বলে গতকাল সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ মামলার ৫৬ জন আসামি জামিনে আছেন। কিন্তু মামলার এজাহারে এই তিন জামায়াত নেতার নাম নেই। অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এক বছরেও পুলিশ আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি।’
গত ৯ অক্টোবর রাজধানীতে উত্তরার একটি বাসায় গোপন বৈঠক থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর মকবুল আহমেদ, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ সংগঠনটির ৯ নেতা আটক হয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের এই তিন শীর্ষ জামায়াত নেতাও।