চট্টগ্রামের উন্নয়নে আলাদা বরাদ্দ ও কানেকটিভিটি চাই খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ

sagir-ahmed-(2)

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় খাতুনগঞ্জ থেকে। ভোগ্যপণ্য আমদানি থেকে শুরু করে বন্টন পর্যন্ত বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয় এখান থেকে। আসন্ন ২০১৬-১৭ বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবং ভাবনা নিয়ে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ কথা বলেছেন সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর সাথে।
সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে খাতুনগঞ্জ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন’ খাতুনগঞ্জের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমরা বিভিন্ন সময় ৬ দফা, ১৪ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি কিন’ কোনো ফল আসেনি। জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা, মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও খাতুনগঞ্জ সম্প্রসারণ ইত্যাদি দাবি দীর্ঘদিনের। এ বাজেটে খাতুনগঞ্জের উন্নয়নে আলাদা বরাদ্দ দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্প এলাকাগুলোতে যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে বিনিয়োগ করতে পারেন সেজন্য ভূমির দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। মৌজা মূল্যে ভূমি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কানেকটিভিটি সুবিধা বাড়ানোর সাথে সাথে গ্যাস, বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানির ব্যয় হ্রাস করতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশেও তেলের দাম আরো কমাতে হবে। এছাড়া ছোট ছোট বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে।’ জনসংখ্যার অর্ধেক মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়ার দাবিও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স’ানে পণ্য পরিবহন সহজ করতে নৌ-বন্দরগুলোর উন্নয়ন প্রয়োজন উল্লেখ করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘একসময় নৌবন্দরগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য হতো। কিন’ এখন তা অনেক কমে গেছে। নৌ-পথে পণ্য পরিবহন ব্যয় অত্যন্ত কম। এছাড়া খাতুনগঞ্জ সহ আশেপাশের ছোট ছোট খাল-নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এগুলো শাসনের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। তাতে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কর্ণফুলীর ড্রেজিং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এগুলো করা হলে সড়ক পথের ওপর চাপ কমবে। বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের অটোমেশন কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।’ রেলওয়ের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। কিন’ সে হিসেবে কানেকটিভিটি বাড়েনি। এছাড়া যে স’লবন্দরগুলো রয়েছে সেগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন।’
দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার সি’তিশীল রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫% এ আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পণ্যের দাম কম রাখতে এটি সামঞ্জস্য করা প্রয়োজন। এছাড়া আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফসল উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। আমদানি নির্ভরতা দেশের অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।’ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক ঋণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে উল্বেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ব্যাংকের সুদের হার এখনো অনেক বেশি। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে হলে এ হার অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় কমবে তেমনি ব্যাংকে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।’ চট্টগ্রামে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, ‘এ খাত থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। এজন্য সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক উদ্যোগ প্রয়োজন। পর্যটনের অন্যতম মূল শর্ত কানেকটিভিটি। এজন্য সরকারের আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন কানেকটিভিটি বাড়ানোর জন্য। বাজেটে এ খাতকে উৎসাহিত করা হলে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে।’
চট্টগ্রামের উন্নয়ন দেশের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য আলাদা বরাাদ্দ দিতে হবে। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটবে তেমনি বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও তা প্রভাব ফেলবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন