চট্টগ্রামের ঈদ শপিং

কামরুন নাহার সানজিদা
biswa-rang-(2)

ঈদকে সামনে রেখে রোজার মাস শুরুর আগেই নতুন আঙ্গিকে সাজতে শুরু করে নগরীর বিপণিকেন্দ্র ও অভিজাত শপিংমলগুলো। ক্রেতারা এখন আর আগের মত ঈদের চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা করেন না। ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে অনেকে ঈদের শপিং আগেই সেরে ফেলতে চান। তাই ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদ কেনাকাটা। দোকানে দোকানে ভিড় শুরু হয়েছে প্রথম রোজা থেকে। নগরীর নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, জিইসি মোড়ের সানমার ওশান সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, মতি টাওয়ার, গুলজার টাওয়ার, ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেট, আখতারুজ্জামান সেন্টারসহ একাধিক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শোরুম রকমারি পণ্যে সাজিয়েছেন।
সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষ কেনাকাটার জন্য রিয়াজউদ্দিন বাজারকেই বেছে নিচ্ছেন। আর যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য ফুটপাতই ভরসা। এর ফলে বেচাবিক্রির কমতি নেই ফুটপাতেও। আর অভিজাত শ্রেণির মার্কেট হিসাবে পরিচিত নগরীর সানমার ওশান সিটি, মিমি সুপার মার্কেট, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, আমীন সেন্টার, সেন্ট্রাল প্লাজাতে কেনাকাটার ধুম লেগেছে।
নিউ মার্কেট বিপণি বিতানে দেশী-বিদেশি সব কাপড়ই সমান বিক্রি হচ্ছে
ঈদ এলেই প্রতিবার জমে ওঠে নগরীর বিপণি বিতান মার্কেট। ক্রেতাদের জন্য ব্যবসায়ীরা ঈদে ভারতীয়, পাকিস্তানিসহ বিদেশি কাপড় বেশি আনলেও এবার দেশীয় ব্র্যান্ডের কাপড়গুলোও সমানতালে বিক্রি হচ্ছে। তবে রমজানের শুরুতে এখনো পর্যন্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারাই বেশি কেনাকাটা করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিপণি বিতানের রশিদ ফেন্সী হাউজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হানিফ জানান, এবারের ঈদে ভারতীয় পোশাকগুলোর সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো। থ্রি পিসের মধ্যে ক্রেতারা পছন্দ করছেন ফ্যাশন এশিয়া, স্টাইল, লেকমি, শহীদ ব্রাদার্স, জেএস ক্র্যাফটস, চাঁদনী চক, ইসলামপুর গাউছিয়া সহ বিভিন্ন দেশীয় ব্র্যান্ড। এছাড়া বেক্সির প্রিন্ট গজ কাপড় ও থ্রি পিসও এবার ভালোই চলছে।
দেশীয় ও স্থানীয় ব্র্যান্ড প্রাইড, শৈল্পিকসহ বিভিন্ন শো-রুমেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করার মতো। সেখানে বিক্রি হচ্ছে শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবী, শার্ট, প্যান্ট। প্রাইডে এবার মসলিন কাপড়ে নকশা করা বেশ কিছু ডিজাইনের শাড়ি এসেছে। এছাড়া সিগনেচার কালেকশনে প্রিন্ট ও টাই ডাই করা এম্ব্রয়ডারি প্রিন্ট, তাঁত সিল্কের শাড়িও পছন্দ করছেন ক্রেতারা। মসলিন শাড়ি পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার, প্রিন্টের সিগনেচার কালেকশন ৮৫০ থেকে দুই হাজার ২০০, টাই ডাই করা এমব্রয়ডারী সিগনেচার কালেকশন ৮৫০ টাকা, তাঁত সিল্ক পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি জমে উঠেছে ভারতীয় কাপড়ের বিক্রি। বেশ কিছু বিক্রেতা জানান, ভারতীয় থ্রি পিস ও শাড়ি পছন্দ করছেন ক্রেতারা। বিপণি বিতানে রূপেরহাট জামদানি হাউসের প্রোপাইটর মোহাম্মদ মাসুদ রানা জানান, এবারের ঈদে ভারতীয় কাতান ও পার্টিশাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের কাতান শাড়ির মধ্যে কাঞ্চি বরণ আড়াই হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা, পঞ্চ পল্লী তিন হাজার ৮০০ থেকে সাড়ে চার হাজার, কানিজ সুপার তিন থেকে ১৬ হাজার, গুজরাটি কাতান ১২ হাজার টাকা। পার্টিশাড়ি কাভেরী সাড়ে তিন থেকে সাত হাজার টাকা, জুলেখা আট থেকে ১৬ হাজার টাকা, বুটিকস শাড়ি দুই থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা, বেনারসী শাড়ি পাঁচ থেকে ২০ হাজার টাকা, অপেরার রঙ দুই হাজার টাকা, হেনা দেড় হাজার টাকা, র সিল্ক বুটিকস নয় হাজার টাকা। এছাড়া ভারতীয় শাহি সিল্ক বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকা।