চট্টগ্রামের ঈদ ফ্যাশন

মোহাম্মদ আলী
Shoilpik

‘ফ্যাশন’ এমন একটি বিষয়, যা সময়ের সাথে বদলায়। এই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে ইতিমধ্যেই ভিড় লাগতে শুরু করেছে। সবাই ঘুরে ঘুরে তার পছন্দের কাপড়টি, জুতা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ব্যস্ত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ফ্যাশন আবদ্ধ থাকে না ঈদে। যার যার রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাকটি সবাই কিনে থাকেন। ঈদের ফ্যাশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করে থাকে দেশী বুটিক হাউসগুলো। ঈদের ফ্যাশন কী হবে, তা আসলে নির্ধারিত হয়ে যায় আরো অনেক আগেই। মাঝখানের সময়জুড়ে চলে প্রস্তুতি, কাপড়বোনা, নকশা আর পোশাক বানানো। ক্রেতার সম্ভাব্য পছন্দ, টেলিভিশনের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর পোশাকের প্রভাব, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনধারা ও কাঁচামালের বাজার : পরিকল্পনা সাজানোর আগে ফ্যাশন হাউসগুলোকে এসব বিষয়ও মাথায় রাখতে হয়।
ঢাকার সাথে তাল মিলিয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও বেড়েছে ফ্যাশন হাউসের সংখ্যা। এর সাথে আবির্ভাব হয়েছে অনেক নতুন নতুন ডিজাইনারের। এক সময় চট্টগ্রামে ফ্যাশন ডিজাইনের তেমন জনপ্রিয়তা না থাকলেও বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কাপড়ের ডিজাইনও অনেক উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন ডিজাইনাররা। নতুনদের চিন্তা ভাবনার অনেক উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এর ফলে তারা ক্রেতা ধরতে সক্ষম হচ্ছে। চট্টগ্রামের ফ্যাশন ডিজাইনকে এগিয়ে নিতে নয় বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ডিজাইনার্স ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। এটি বর্তমানে চট্টগ্রামে বুটিক হাউসগুলোকে নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর চট্টগ্রামে ফ্যাশন ডিজাইনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজাইনার ফারুকী আজম, জুলেখা খান, বদরুন্নেসা ফারুকী, শিমুল খালেদ, আহমেদ নেওয়াজ, রওশন আরা চৌধুরী, আইভি হাসান, আয়েশা খানের নাম উল্লেখযোগ্য। গত কয়েক বছর ধরে ঈদ হচ্ছে গ্রীষ্মকালে। তাই কাপড় আর নকশাটাও হচ্ছে একটু হালকা টাইপের। এগিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় এবারও ঈদ হচ্ছে বেশি গরমে। ফলে পোশাকের ধরন ও নকশায় এবার সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য থাকবে এমনটাই জানালেন ডিজাইনাররা। চট্টগ্রামে ফ্যাশনের ধরন সাধারণত, পুরুষদের পায়জামা, পাঞ্জাবী ও ফতুয়া এবং মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, ত্রিপিস ও শাড়ি।
এবারের ঈদে কটন, দেশীয় ও সুতার কাপড়ের প্রাধান্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন ডিজাইনাররা। ঈদের ফ্যাশনে ঢাকা-চট্টগ্রামে তেমন কোন পার্থক্য নেই বলে মনে করেন ফ্যাশন ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী। তার মতে এবারের ঈদ প্রচুর গরম অথবা বর্ষার মধ্যে হবে। সারা বাংলাদেশে যা হয় ঈদে চট্টগ্রামেও তাই হবে। এখনকার ক্রেতারা খুবই সচেতন। তারা নিজেরাই ডিজাইনার। চট্টগ্রামের ক্রেতারা তরুণ-মধ্য বয়সী এবং চল্লিশোর্ধ এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। আমি মধ্য বয়সীদের (২৫-৩০ বছর বয়সী) কথা বেশি মাথায় রাখি। তরুণ-তরুণীরা বেশিরভাগ বিদেশী কাপড়ের ভক্ত। যেহেতু এবার গরমের মধ্যে ঈদ হবে, সেহেতু হালকা কটন বা সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি থাকবে। হালকা কাপড়ের ডিজাইন করা পোশাক যে গর্জিয়াস হয় না, তা কিন্তু ঠিক না। অন্যদিকে, যারা বেশি চাকচিক্য পছন্ন করে, তারা চলে যাবে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে। চট্টগ্রামে যথারীতি বাহারি নাম আর চটকদার ডিজাইনে এবারো ভরে উঠবে আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, সানমার ওসান সিটি, আমিন সেন্টার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সেন্টার প্লাজা। আফমি প্লাজায় ঢাকার ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রাধান্য বেশি। অন্যদিকে, সানমার শপিং মলে আবার দেখা যায় চট্টগ্রামের হাউসগুলো বড় শোরুম নিয়েই আছে।