চকরিয়ায় শীতকালীন সবজির ফলনে সন’ষ্ট কৃষক

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর দুই তীরে জেগে উঠা বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। পাশাপাশি চলতি শুস্ক মৌসুমে উপজেলার বির্স্তীণ জনপদে শীতকালীন সবজিসহ রকমারি ফসলে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে টাটকা সবজি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বাজারে টাটকা সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। বর্তমানে চকরিয়া উপজেলায় উৎপাদিত রকমারি সবজি স’ানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার তেমন অঘটন না থাকায় উপজেলার বেশিরভাগ অঞ্চলে শীতকালীনসহ রকমারি সবজির ভালো আবাদ হয়েছে। অবশ্য প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকার কারনে চলতি মৌসুমে বেশ আগেভাগে চাষে নামেন প্রান্তিক কৃষকেরা। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে গত দেড় মাস ধরে একনাগাড়ে সবজিক্ষেতে সময় দিয়েছেন কৃষকরা। এখন ক্ষেতে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত সবজি খুচরা ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তাঁরা।চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি শুস্ক মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর দুই তীরের পৌরসভার বিভিন্ন ব্লক ছাড়াও উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, কৈয়ারবিল, বরইতলী, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নসহ অন্তত ১০ ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার কৃষক মাঠে রয়েছেন সবজিচাষে। অপরদিকে চকরিয়া উপজেলার বুকচিরে প্রবাহিত মাতামুহুরী নদীর দুইতীর ও কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নদীর চকরিয়া অংশের দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন সবুজের সমারোহ।স’ানীয় কৃষকরা জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে বেগুন, মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার চাষ করা হয়। ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রিও শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও গাজর, শিম, লাউ, বরবটি, ঢেঁড়স, করলা, তিত করলা, লালশাক, পুঁইশাক, ধনিয়া পাতায় ভরে উঠেছে সবজিক্ষেতগুলো। চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা গ্রামের বাসিন্দা মাতামুহুরীর তীর এলাকার কৃষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, প্রতিবছর মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা ব্রীজের নীচের অংশে জেগেউঠা বালুরচরে তিনি তিন থেকে চার কানি জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেন। এবারও একই পরিমাণ জমিতে আগাম সবজিচাষে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরার্মশ নিয়ে চাষে নেমেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর ক্ষেত থেকে টমেটো, বেগুন, মরিচ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রিও করা হয়েছে। একমাসে লক্ষাধিক টাকা রকমারি সবজি বিক্রি করেছেন। চকরিয়া পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল করিম বলেন, আমার এলাকার (চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা, মৌলভিরচর, জালিয়াপাড়া ও চিরিঙ্গা ব্রিজ) অংশের বেশির মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এবার ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার অঘটন না থাকায় বেশির ভাগ কৃষক আগাম সবজি চাষ শুরু করেন। এবার সবজি উৎপাদনে ভালো করছেন স’ানীয় কৃষকরা। এখন উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছেন তাঁরা। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজিচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার হেক্টর জমিতে। এবার বন্যা না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মৌসুম শুরুর অনেক আগেই কৃষকরা চাষে নামেন। এজন্য আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও পরামর্শমুলক দিকনির্দেশনাও দিয়েছি। এববছর মাতামুহুরী নদীর তীর এলাকার অন্তত দশটি ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার কৃষক সবজিচাষ করছেন। ইতোমধ্যে কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন।