চকরিয়ায় বন্যা পরিসি’তির অবনতি

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া

অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার তাণ্ডবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের কন্যারকুম এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশাল আয়তনের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা অংশ দিয়ে বন্যা ও জোয়ারের পানি অনায়াসে ঢুকছে লোকালয়ে। এ অবস’ার কারণে দুইদিন ধরে ওই এলাকায় চলছে রীতিমত জোয়ার-ভাটার খেলা।
গতকাল বুধবার দুপুরে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইমান আলী প্রমুখ।
জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া শাখা কর্মকর্তা (এসও) তারেক বিন সগীর বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কোনাখালী ইউনিয়নের কন্যারকুম পয়েন্টে অন্তত ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ পানির ধাক্কায় ভেঙ্গে গেছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে এবং মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস’ বেড়িবাঁধের মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে চারদিন থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার কারণে চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিসি’তি অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে উপজেলার আঠারটি ইউনিয়ন ও একটি
পৌরসভা এলাকার হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস’ায় দিন কাটাচ্ছে। রোববার থেকে শুরু ভারী বর্ষণের পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীতে উজানের পাহাড়ি এলাকার ঢলে পৌর সভাসহ চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজারের বেশি বসতঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার অভ্যন্তরীণ জিদ্দাবাজার-মানিকপুর সড়ক, চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, কেবি জালাল উদ্দিন সড়ক ও বরইতলি-মগনামা সড়ক সহ একধিক আঞ্চলিক সড়কে জীবন ঝুঁকি নিয়ে অল্প সংখ্যক গণপরিবহণ চলাচল করছে। ঈদ করতে গ্রামের উদ্দেশ্যে শহর ফেরত মানুষের সংখ্যাও কমে গেছে।
মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামলে প্রথমে আঘাত করে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ও কাকারা ইউনিয়নে। গত চারদিন ধরে দুইটি ইউনিয়নের হাজারো বসতঘর ৪-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে এই ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ার কারণে দুর্গত পরিবারগুলোতে রান্না-বান্নার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস’ায় অনেক পরিবার শুকনো খাবার ও পানি খেয়ে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তাদের ইউনিয়নের বেশির ভাগ নিচু এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। এখনো হাটু পানিতে নিমজ্জিত চকরিয়া সরকারি কলেজ, আমজাদিয়া মাদরাসা সহ হাজার হাজার বসতঘর।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বির্স্তীণ জনপদ পানিতে ভাসছে। বানবাসি মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে একটু উঁচু স’ানে অবসি’ত নিকট আত্মীয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে পরিবার সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে উপজেলার লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ফাঁসিয়াখালী, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়নের ৮০ ভাগ এলাকা।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিসি’তি চরম আকার ধারণ করেছে। জনসাধারণ পানিবন্দি অবস’ায় কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে। বন্যা পরিসি’তির বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রানালয়ে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় ভেঙ্গে যাওয়া কোনাখালী ইউনিয়নের কন্যারকুম পয়েন্টের ক্ষতিগ্রস’ বেড়িবাঁধ পরির্দশন করা হয়েছে। জনগনের দুর্ভোগ লাগবে অতি সহসা ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।