চিংড়িঘের কর্মচারী হত্যাকাণ্ড

চকরিয়ায় আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, জনমনে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ায় চিংড়িঘের কর্মচারী নুরুল ইসলাম খুনের মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা পুলিশের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিরা বহাল তবিয়তে থাকার কারণে মামলার বাদিপক্ষ ও রামপুর চিংড়িজোনের ঘের মালিক এবং চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযুক্ত অপরাধীরা যে কোনো মুহূর্তে আবারও অঘটন ঘটাবে এমন আশঙ্কায় লোকজনের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
স’ানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ইজারা নেয়া রামপুর চিংড়িজোনের একটি চিংড়িঘেরে মাসিক বেতনে চাকরি করতেন একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কোরালখালী গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৬০)। পূর্ব শুত্রুতার জের ধরে ২০১০ সালের ২৩ জুলাই রাতে ওই চিংড়িঘেরে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী হানা দেয়। এসময় অস্ত্রধারীরা ঘেরটির ইজারাদার নুরুল আলম ও কর্মচারী নুরুল ইসলামকে মাছ ধরার সময় আটক করে বেদম প্রহার করে। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে ঘটনাস’লে গুলিবিদ্ধ হয়ে কর্মচারী নুরুল ইসলাম নিহত হন।
জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দুইদিন গত ২৫ জুলাই রাতে নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা খাতুন (৫২) বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মনজুর বলীর ছেলে সেকাব উদ্দিন, কোরালখালী পূর্বপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুল হামিদ, আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাজীব, জাগের আহমদের ছেলে কাইছার, কোরালখালীর দক্ষিণ পাড়ার মৃত মোহাম্মদ ইছহাকের ছেলে নুরুল কাদের, কোরালখালী পশ্চিমপাড়ার মনছুর আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ঈদমনি গ্রামের ছৈয়দ নুরের ছেলে বাবুল, সাহারবিল কোরালখালী পশ্চিমপাড়ার বশির আহমদের ছেলে আবদু শুক্কুর, একই এলাকার কাইছার ও নুরুল আলমের ছেলে জুনাইদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪-৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
স’ানীয় চিংড়িঘের মালিক ও চাষিরা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার বেশির ভাগ আসামি দিনের বেলায় পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে পাশের চিংড়িজোনে অবস’ান নেয়। রাতের বেলায় ফের এলাকায় ফেরে। আবার অনেকে আগের মতো রাতের বেলায় চিংড়িঘেরে গিয়ে হামলার মহড়া দিচ্ছে। এ অবস’ার কারণে ঘের মালিক ও চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিলের রামপুর চিংড়িজোনের কোরালখালীস’ নয়াঘোনা নামক একটি চিংড়িঘেরে খুনের ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাতে ১৭-১৭জনের অস্ত্রধারী হানা দেন স’ানীয় রামপুর উমখালী গ্রামের মরহুম দুলা মিয়ার ছেলে আবদুল হামিদের ইজারা নেয়া ১৬ একর আয়তনের চিংড়িঘেরে। ঘটনার সময় অস্ত্রধারীরা ঘেরের খামারঘর থেকে ইজারাদার আবদুল হামিদকে (৩০) ধরে নিয়ে গুলি করে। পরদিন ১০ জানুয়ারী বিকাল আড়াইটায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস’ায় মারা যান হামিদ।
এ ঘটনায় নিহত হামিদের বড়ভাই আবদুল করিম বাদি হয়ে ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি চকরিয়া থানায় ১৩জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে অভিযুক্ত আবদু শুক্কুর, সেকাব উদ্দিন ও আবদুল হামিদ ৭ বছর পর গত মাসে খুন হওয়া ঘের কর্মচারী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।