তিতলির প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত

চকরিয়ায় আমন ও সবজি ক্ষেতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া

ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় টানা ভারি বর্ষণে রোপন আমন ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার বেশিরভাগ ক্ষেতের ফসল। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় থোড় আসা রোপা আমন ও বেগুন, মরিচ, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, তিত করলা, বরবটি, শসা, ঝিঙ্গেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি লবণ মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় প্রস’ত করা অনেক মাঠের লবণ উৎপাদনও পিছিয়ে গেছে। এতে সর্বনাশের কবলে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে উপজেলার হাজারো কৃষক। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা শুনিয়েছেন আশার বাণী। তাঁরা বলেছেন, ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে ভারি বর্ষণের ফলে যেসব এলাকায় ক্ষেতের ফসল পানিতে ডুবে গেছে, তা ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ক্ষেত থেকে বৃষ্টির পানিতে নেমে যাচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.আতিক উল্লাহ বলেন, কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নিচু বা ডোবা জমির সামান্য ধান ক্ষতি হতে পারে। তবে বৃষ্টি থামলে মাঠ পরির্দশনে দেখা গেছে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে কৃষকরা ক্ষেতের ফসল রক্ষার্থে উপরিভাবে ছত্রাক ছিটিয়ে পরিচর্যা কাজ শুরু করেছেন। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষেতের ফসল যাতে ক্ষতিসাধন না হয় সেদিকে নজর রাখছেন। তিনি বলেন, তিতলির প্রভাবে ভারী বর্ষণের বিপুল পরিমাণ সবজি ক্ষেত ও রোপা আমন পানিতে নিমজ্জিত হলেও বড় ধরণের ক্ষতিসাধনের কোন সম্ভাবনা নেই। গতকাল ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার ৫৫টি ব্লকের অধীনে ৪৮ হাজার একর জমিতে সেই ধরণের ক্ষতির ব্যাপারে আমার দপ্তরে পরিসংখ্যান জমা পড়েনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আর বরেন, পরির্দশনে দেখা গেছে বিভিন্ন ঘরভিটায় লাগানো সবজি নষ্ট হচ্ছে নালা নর্দমা না থাকার ফলে পানি জমে। তিতলির বৃষ্টিতে কিছুকিছু জমিতে পক্ষকালের মধ্যে রোপন করা সবজির ক্ষতি হতে পারে। তবে তা অত্যধিক ক্ষতি হবেনা। তা সত্বেও চকরিয়ায় আশাতীত আমন চাষ হয়েছে। উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন হবে। চকরিয়া থেকে বিভিন্ন জেলায় সবজি রপ্তানির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বেলাল উদ্দিন সওদাগর, সাহাব উদ্দিন সওদাগরসহ বেশ কয়েকজন পাইকারি সবজি ক্রেতা বলেন, প্রতি মৌসুমে চকরিয়ার সবজি চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষ করে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজির চাহিদা বেশি। তাই আগাম অর্ডার দিয়ে রাখতেন সেখানকার ক্রেতারা। কিন’ বর্ষা মৌসুমের লাগাতার ভারি বর্ষণ ও সর্বশেষ ঘুর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে উপজেলার সবজি ক্ষেতের। এতে এবছর সবজি রপ্তানিতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।